সাদৃশ্যপূর্ণ শাসকও অথ্যাৎ সুলতান ঘুরিও অধিকৃত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন-উক্তিটি সঠিক।মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে ঘুরির নাম সর্বাপেক্ষা। তিনি ছিলেন একজন সুনিপুণ যোদ্ধা ও ক্ষমতাবান শাসক। দৃঢ় সংকল্প ও অসীম সাহসের অধিকারী মুহাম্মদ ঘুরি তৃতীয় পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে সর্বপ্রথম স্থায়ী মুসলিম কতৃর্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের মধ্যে তারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।খসরুশাহ হিরাতের সম্রাটকে পরাজিত ও নিহত করে তার স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। মুহাম্মদ ঘুরির ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। মোহাম্মদ ঘুরি ছিলেন দূরদর্শী ও বাস্তববাদী রাজনীতিবিদ এবং অসাধারণ সামরিক প্রতিভার অধিকারী। তার উদ্দেশ্য ছিল ভারতে একটি স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে তিনি সুপরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। একা একে তিনি গুজরাট, মুলতান দখল করেন। এরপর ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি ভারতের মূলভূখণ্ডের প্রবেশের পরিকল্পনা করেন। এই যুদ্ধে তার বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। এই পরাজয় মুহাম্মদ ঘুরিকে প্রতিশোধের আগুনে উত্তপ্ত করে। এজন্য তিনি ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে তারাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেন । এই যুদ্ধে তিনি চৌহান রাজা পৃথ্বীরাজ ও সম্মিলিত রাজপুত বাহিনীকে পরাজিত করেন ভারতের স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার কৃতির্ত অর্জন করেন। সুতরাং বলা যায়, সাদৃশ্যপূর্ণ শাসকও অথ্যাৎ সুলতান ঘুরিও অধিকৃত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন-উক্তিটি উপরে আলোচনা করা হলো।