উদ্দীপকে মহিমের অভিযানের সাথে প্রাক-সালাতানাত যুগের শাসক সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সাথে মিল রয়েছে। অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের মাধ্যমে আরবদের ভারতে আধিপত্য বিস্তার হয়। এর প্রায় ৩০০ বছর পর দ্বিতীয় পর্যায়ে মুসলমানদের ভারত অভিযান শুরু হয়। এ পর্যায়ে ভারত অভিযানের প্রধান নায়ক ছিলেন গজনীর তুর্কি বীর সুলতান মাহমুদ। উদ্দীপকে মহিমের মাধ্যমে এই শাসকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে বাকুড়ার মহিম একজন সাহসী যোদ্ধা। তার নেতৃত্বে বাঁকুড়বাসি হিজলডাঙ্গায় অসংখ্যবার আক্রমণ চালায় এবং প্রত্যেকবারই ব্যাপক লুটতরাজ চালিয়ে এবং তাদের পরাজিত করে প্রচুর অর্থ-সম্পদ হস্তগত করে। লুণ্ঠিত সম্পদ দিয়ে মহিম বাঁকুড়াকে সুন্দর করে গড়ে তোলেযা আমরা সুলতান মাহমুদের মধ্যেও দেখতে পাই।তিনিও ছিলেন একজন সাহসী ও সমরপ্রিয়। ১০০০ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সুলতান মাহমুদ প্রায় ১৭ বার বারত অভিযান চালান। ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত ১৭টি অভিযানেই তিনি বিস্ময়করভাবে জয় লাভ করেন। বিজিত অঞ্চল থেকে তিনি প্রচুর পরিমাণে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করেন। এই সম্পদ দিয়ে তিনি গজনীকে অতুলনীয় ও সমৃদ্ধ স্বপ্নপুরীতে পরিণত করে ।তার সময়ে শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্য সহ বিভিন্ন দিক দিয়ে গজনী বিশ্বনন্দিত শহরে পরিণত হয়েছিল। সুলতান মাহমুদ গজনীতে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয, পাঠাগার ও জাদুঘর নির্মাণ করেন। এই কাজগুলোর বেশিরভাগ তিনি ভারত থেকে লুন্ঠিত অর্থ-সম্পদ দিয়ে করেছিলেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে মহিমের অভিযানের সাথে প্রাক-সালাতানাত যুগের সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মিল রয়েছে।।