উল্লিখিত শাসক ১ম ও ২য় তরাইনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের উল্লিখিত শাসক হলেন মুহাম্মদ ঘুরী। তিনি পৃথ্বিরাজের সাথে তরাইনের প্রথম ও দ্বিতীয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তরাইনের প্রথম যুদ্ধ: তরাইন একটি গ্রামের নাম। এটি থানেশ্বর হতে ২২.৫৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১১৯১ খ্রি. এখানে মুহাম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বিরাজের নেতৃত্বে গঠিত জোট বাহিনীর যুদ্ধ হয়। ঐতিহাসিক আবুল কাশেম ফিরিস্তার বর্ণনা মতে, জোট বাহিনীতে ২ লাখ অশ্বারোহী এবং ৩০০০ হস্তি ছিল। মুহাম্মদ ঘুরী তার সৈন্যবাহিনীকে ডান, বাম ও মধ্য এ তিন ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি নিজে মধ্যভাগের নেতৃত্ব দেন। : জোটবাহিনী মুসলিম বাহিনীর ডান ও বাম অংশকে আক্রমণ করে এবং পৃথ্বিরাজের ভাই গোবিন্দরাজ ছিলেন, মধ্যভাগে। গোবিন্দরাজের আঘাতে মুহাম্মদ ঘুরী মারাত্মক আহত হন। বিশ্বস্ত খলজি সৈনিকের সহায়তায় মুহাম্মদ ঘুরী প্রাণে রক্ষা পান এবং নিজ রাজ্যে ফিরে যান। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ: ১১৯২ সালে একই স্থানে মুহাম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বিরাজের নেতৃত্বে গঠিত জোটবাহিনীর সাথে যুদ্ধ হয়। যা তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে ঘুরীর ১,২০,০০০ সৈন্যের মধ্যে সুসজ্জিত, প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খলিত অশ্বারোহীর এক বাহিনী ছিল। ১০,০০০ তীরন্দাজ। ঘুরী ১০,০০০ সৈন্য দিয়ে ৪টি বাহিনী গঠন করেছিলেন। ১২,০০০ অশ্বারোহী দিয়ে তিনি আলাদা একটি বাহিনী গঠন করেন। এ বাহিনী ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ও দুর্ধর্ষ। অপরদিকে পৃথ্বিরাজের ৩,০০,০০০ সৈন্যের মধ্যে সুসজ্জিত অশ্বারোহীর বাহিনী ছিল। ১৫০ রাজন্যবর্গ নিয়ে পৃথ্বিরাজের জোটবাহিনী গঠিত ছিল। উভয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলতে থাকে। হিন্দুবাহিনী যখন রণক্লান্ত, তখন ১২,০০০ অশ্বারোহী বাহিনী বেপরোয়াভাবে শত্রু নিধনে লিপ্ত হয়। তীরন্দাজ, অশ্বারোহী এ বাহিনীর আক্রমণে শত্রুপক্ষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে যাওয়ার পথে পৃথ্বিরাজকে বন্দি করা হয় এবং পরে হত্যা করা হয়।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উল্লিখিত শাসক ১ম ও ২য় তরাইনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল-ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর