উক্ত অভিযানের ফলে ব্রাহ্মণাবাদ, আলোর ও মুলতানের পতন ঘটেছিল বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের ফলে ব্রাহ্মণাবাদ, আলোর ও মুলতানের পতন হয়েছিল — বক্তব্যটি যথার্থ । হাজ্জাজ বিন ইউসুফ খলিফা ওয়ালিদের অনুমোদনক্রমে ৭১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমে ওবায়েদুল্লাহ ও পরে বুদাইলের নেতৃত্বে সিন্ধুর রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে দুইটি অভিযান প্রেরণ করেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দুইটি অভিযানই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলার জন্য হাজ্জাজ ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধুতে তৃতীয় অভিযান পাঠান। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম 'দেবল' বন্দরে এসে উপস্থিত হন, যা ব্রাহ্মণ ও রাজপুতদের দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। তিনি দুর্গটি অবরোধ করলেন এবং 'মানজানিকের' সাহায্যে বৃহদাকার প্রস্তর নিক্ষেপ করে শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করে দেবল অধিকার করেন । দেবল দখলের পর মুহাম্মদ বিন কাসিম নিরুন, সিওয়ান, সিসাম জয় করে রাজা দাহিরের মুখোমুখি হন। রাওয়ারে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করেও রাজা দাহির পরাজিত ও নিহত হন। রাওয়ার দখল শেষে মুহাম্মদ বিন কাসিম ব্রাহ্মণাবাদের দিকে অগ্রসর হন। এ শহরের শাসক জয়সিংহ মুহাম্মদ বিন কাসিমের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। এখানে রাজা দাহিরের অপর স্ত্রী লোদী এবং দুই কন্যা সূর্যদেবী ও পরিমল দেবী বন্দি হন। ব্রাহ্মণাবাদের পতনের পর কাসিম আলোর জয় করেন। আলোর ছিল 'সিন্ধুর' রাজধানী । রাজা দাহিরের পুত্র কুফি তখন রাজধানীতে ছিলেন। তার সাথে কাসিমের কিছু সময় যুদ্ধ হয়। মুহাম্মদ বিন কাসিম চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হন। মুহাম্মদ বিন কাসিম ব্রাহ্মণাবাদ এবং সিন্ধুর রাজধানী আলোর অধিকার করে ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধশালী শহর মুলতান অবরোধ, ও দখল করেন। মুলতানে হিন্দুরা প্রায় দু'মাস মুহাম্মদ বিন কাসিমকে প্রতিরোধ করে পরাজিত হয়। মুলতান বিজয়ের মধ্য দিয়ে রাজা দাহিরের সমগ্র রাজ্যের ওপর আরবদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, মুহাম্মদ বিন কাসিম ছিলেন একজন তরুণ এবং সাহসী বীর । সিন্ধু অভিযানে তার অপরিমেয় বীরত্বে ব্রাহ্মণাবাদ, আলোর ও মুলতানের পতন হয়েছিল ।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উক্ত অভিযানের ফলে ব্রাহ্মণাবাদ, আলোর ও মুলতানের পতন ঘটেছিল বিশ্লেষণ…
উদ্দীপক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর