শ্রেষ্ঠ বীর নরপতি ও শাসক হিসেবে উক্ত শাসক তথা সুলতান মাহমুদের কৃতিত্ব অপরিসীম।সমসাময়িক বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সেনাপতি সুলতান মাহমুদ ভারত অভিযানকালে যে অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন তা তার সামরিক প্রতিভারই পরিচায়ক। আলেকজান্ডারের প্রাচ্যদেশীয় বিজয় অপেক্ষা সুলতান মাহমুদের সামরিক অভিযানগুলো অধিক আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ঐতিহাসিক ড. রমেশচন্দ্র মজমুদার বলেন, "তিনি ছিলেন সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমরনায়ক।" ঐতিহাসিক স্ট্যানলি লেনপুল বলেন, "মাহমুদ ছিলেন একজন উঁচুদরের সৈনিক। তার দেহে যেমন ছিল শক্তি, মনেও ছিল তেমনি অফুরন্ত সাহস।" মাহমুদ অত্যন্ত সতর্ক ও দুঃসাহসী সমরনায়ক ছিলেন। এস. এম. জাফর বলেন, "সুলতান মাহমুদ সমরবিদ্যায় অসাধারণ নৈপুণ্য অর্জন করেন। সেনাপতি হিসেবে তার কার্যের ধারা ছিল রিজ্ঞানভিত্তিক।" অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী মাহমুদ আরবীয়, তুর্কি, আফগান, হিন্দু, ইরানি প্রভৃতি ভাষা ও জাতির সৈন্য নিয়ে এক অপরাজেয় সৈন্যবাহিনী গঠন করেছিলেন। ঐতিহাসিক ড. ঈশ্বরীপ্রসাদ বলেন, “একটি ক্ষুদ্র পার্বত্য রাজ্যকে শুধু বাহুবলে একটি বিশাল ও সমৃদ্ধিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করা কম কৃতিত্বের কাজ নয়।” ঐতিহাসিক ড. স্মিথ সুলতান মাহমুদের যুদ্ধকৌশলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং ত্বরিত কার্যকারিতা তার সফলতার মূল কারণ ছিল। ঐতিহাসিক হাবিব বলেন, “যুদ্ধকৌশল অপেক্ষা যুদ্ধ পরিচালনায় মাহমুদ গুরুত্ব দিতেন বেশি।” শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমেই সুলতান মাহমুদ আফগানিস্তান, পারস্য, ট্রান্সঅক্সিয়ানা এবং পাঞ্জাবে স্বীয় আধিপত্য বিস্তার করেন।পরিশেষে বলা যায়, সুলতান মাহমুদ সেনাপতি ও শাসক হিসেবে অসামান্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।