ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় উক্ত শাসক তথা মুহাম্মদ ঘুরীর অবদান অপরিসীম।
মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয় লাভ করে ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ঈশ্বরীপ্রসাদ বলেন, "He comquered the country and aimed at permanent Setllement." অর্থাৎ মুহম্মদ ঘুরী বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। ভি, এ স্মিথের মতে ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধকে চূড়ান্ত সংঘর্ষ হিসেবে গণ্য করা যায়। যা হিন্দুস্তানের উপর মুসলিম আধিপত্যের চরম সাফল্যের সূচনা করে। স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করে ঘুরী মিরাট, দিল্লি, আলীগড়সহ বিভিন্ন এলাকা দখল করেন। মুহাম্মদ ঘুরী ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করে তার সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেকের ওপর অধিকৃত অঞ্চলের শাসনভার অর্পণ করে গজনিতে ফিরে যান। তার সময়ে ঐতিহ্যমণ্ডিত দিল্লিকে ভারতের রাজধানী করা হয়। পরবর্তীতে কুতুবউদ্দি আইবেক মুহাম্মদ ঘুরীর মৃত্যুর পর ১২০৬ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জুন লাহোরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের মুসলিম রাজ্যের সুলতান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। যার ফলে দিল্লি সালতানাতের সূচনা ও দাসবংশের গোড়াপত্তন হয়। মুহাম্মদ ঘুরী পৃথ্বিরাজ চৌহানসহ বেশিরভাগ রাজপুত রাজাকে হত্যা করলে ভারতে মুহাম্মদ ঘুরীকে মোকাবিলা করার মতো অন্য কোনো শক্তি ছিল না। যার ফলে তিনি কুতুবউদ্দিন ভারতে দাস বা মামলুক বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
অতএব বলা যায়, মুহাম্মদ ঘুরী ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করে ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেন।