উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শাসক সুলতান মাহমুদ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যেই ভারত অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। উক্তিটি যথার্থ নয়।উদ্দীপকে মহিম হিজলডাঙায় বারবার অভিযান পরিচালনা করে বিজয়ী হলেও স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা না করে তিনি লুণ্ঠন ও লুটতরাজ করেন। মহিমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সুলতান মাহমুদ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণ তথা ধনসম্পদ লাভের আশায় ভারত অভিযান করেন এমন মনে করা যুক্তিযুক্ত নয়। কেননা তার অভিযানের পিছনে অর্থনৈতিক কারণ থাকলেও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণও বিশেষভাবে দায়ী ছিল। সুলতান মাহমুদের ১৭ বার ভারত অভিযানের পিছনে তার উদ্দেশ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আব্বাসীয় খলিফা কাদির বিল্লাহ তাকে ইয়ামিন-উদ-দৌলা বা রাজ্যের ডান হাত উপাধি দিয়ে ভারত অভিযানের নির্দেশ দেন। ভিনসেন্ট এডম স্মিথের মতে, সুলতান মাহমুদের সামরিক অভিযান গভীর ধর্মীয় আবেগ দ্বারা পরিচালিত হয়। ঐতিহাসিক ঈশ্বরীপ্রসাদের মতে তার আজন্ম গুণাবলির সাথে ধর্মীয় প্রবণতার প্রবেশ ঘটে এবং তাকে ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতায় পরিণত করে। তাছাড়া হিন্দু রাজাদের শান্তিভঙ্গ, বিশ্বাসঘাতকতা, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, সুলতাদের শত্রুদের আশ্রয়দান প্রভৃতি রাজনৈতিক কারণে তিনি ভারত অভিযান করে বিজয় লাভের পর শুধু'পাঞ্জাবকে রাজ্যভুক্ত করেন।পরিশেষে বলা যায়, সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের পিছনে শুধু একটি উদ্দেশ্য নয়, একাধিক উদ্দেশ্য ছিল। অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য অন্যতম হলেও তিনি শুধু অর্থনৈতিক লাভবান হওয়ার বা লুটতরাজ ও লুণ্ঠনের জন্য ভারত আক্রমণ করেন এটি সঠিক নয়।