উদ্দীপকে যুদ্ধের ফলাফলের সাথে মোহাম্মদ ঘুরির তরাইনের যুদ্ধের ফলাফলের পার্থক্য রয়েছে। উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো :
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ 'এক যুগান্তকারী ' ঘটনা। ভি.এ.স্মিথের মতে, "১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে সংগঠিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধকে চূড়ান্ত সংঘর্ষ হিসেবে গণ্য করা যায় যা হিন্দুস্তানের উপর মুসলিম আধিপত্যের চরম সাফল্যের সূচনা করে"। উদ্দীপকে ভার্নার যুদ্ধের ক্ষেত্রে এ বিরাট সাফল্য লক্ষ্য করা যায় না।
উদ্দীপকের সুলতান মুরাদের পরিচালিত ভার্নার যুদ্ধে মধ্যে উত্তর ইউরোপীয় অটোমান অংশ আশঙ্কা মুক্ত হয়। অপর দিকে তরাইনের যুদ্ধে সুলতান ঘুরির ভারতে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ 'এক যুগান্তকারী গঠনা '। এ.বি.এম হাবিবুল্লাহ বলেন, "মুইজউদ্দিনের এ বিজয় কোনো বিক্ষিপ্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিজয় কিংবা দৈব ঘটনা ছিল না। একদিকে এ বিজয় ছিলো একজন দৃঢ়সংকল্প বিজেতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পরিচালিত কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং অপরদিকে ছিল পূর্ণ দ্বাদশ শতাব্দী ধরে বিস্তৃত একটি ধারার সফল পরিণতি"। বস্তুত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে রাজপুতদের রাজনৈতিক শক্তি খর্ব হয় এবং তারা মুসলমানদের প্রতিরোধ করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। ফলে ভারতীয় রাজ্যগুলোর ওপর মুহাম্মদ ঘুরির চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সুনিশ্চিত হয় এবং উত্তর ভারতের দিল্লি পর্যন্ত সব শহরের তোরণ তার জন্য উন্মোচিত হয়। বিজয়ী মুহাম্মদ ঘুরি অনায়াসে সামানা, সিরসুত, কুহরাম ও হান্সি দখল করেন। আনুগত্য এবং নিয়মিত কর প্রদানের শর্তে আজমিরের শাসনভার পৃথ্বীরাজের পুত্র গোলার ওপর ন্যস্ত করা হয়।
সুতরাং বলা যায়, উক্ত যুদ্ধের ফলাফলের সাথে মুহাম্মদ ঘুরির তরাইনের যুদ্ধের ফলাফলের পার্থক্য ছিল। যা উপরে বিশ্লেষণ করা হলো।