উক্ত অভিযান তথা আরবদের সিন্ধু অভিযানে ব্রাহ্মণাবাদ আলোর ও মুলতানের পতন ঘটেছিল- উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।উদ্দীপকের ঘটনার সাথে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের ব্রাহ্মণাবাদ, আলোর ও মুলতান জয়ের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রাওয়ার যুদ্ধে রাজা দাহিরকে পরাজিত করে মুহাম্মদ বিন কাসিম ব্রাহ্মণাবাদের দিকে অগ্রসর হন। তখন ব্রাহ্মণাবাদের শাসক ছিলেন দাহির পুত্র জয়সিংহ। জয়সিংহ মুহাম্মদ বিন কাসিমের কাছে পরাজিত হন। শহরবাসী আত্মসমর্পণ করলে তাদের জীবন, সম্পদ ও জমিজমা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাও প্রদান করা হয়। শহরবাসী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জিজিয়া দিতে সম্মত হয়। রাজা দাহিরের স্ত্রী লোদী এবং কন্যা সূর্য দেবী ও পরিমল দেবী বন্দি হন। আলোর ছিল সিন্ধুর রাজধানী। রাজা দাহিরের পুত্র কুফির সাথে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সামরিক যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মুহাম্মদ বিন কাসিম চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হন। আলোর বিজয় সম্পন্ন করে আরব বাহিনী মুলতানের দিকে অগ্রসর হন। মুলতানে হিন্দুরা প্রায় দুই মাস যাবৎ প্রতিরোধ করে অবশেষে পরাজিত হয়। ৭১৩ খ্রিষ্টাব্দে মুলতান আরবদের দখলে চলে আসে। এভাবে মুহাম্মদ বিন কাসিম রাজা দাহিরকে পরাজিত করে ব্রাহ্মণবাদ, আলোর এবং মুলতান দখল করেন।পরিশেষে বলা যায়, চীনের বিজয়াভিযানের সাথে মুহাম্মদ বিন কাসিমের ব্রাহ্মণাবাদ, আলোর ও মুলতান বিজয় সম্পর্কযুক্ত।