চেঙ্গিস খানের সাথে আমার পঠিত সুলতান মাহমুদের মিল বিদ্যমান।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান নিজ রাজ্য মঙ্গোলিয়ায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর চীন, খাওয়ারিজম, রাশিয়া, তুর্কিস্তান, সিস্তান প্রভৃতি রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অঞ্চল বিজয় করে তিনি বিজিত অঞ্চলের ধন-সম্পদ দিয়ে পিতৃরাজ্য মঙ্গোলিয়াকে স্থাপত্যিক ও সামরিক সাজে সজ্জিত করেন। যা সুলতান মাহমুদের কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। চেঙ্গিস খানের মতো গজনির শাসক সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সতেরোবার ভারত অভিযান পরিচালনা করেন এবং এ সময় এখান থেকে প্রচুর ধনসম্পদ আফগানিস্তানে নিয়ে যান। এসব সম্পদ দ্বারা তিনি স্বীয় রাজ্যের উন্নতি ও সমৃদ্ধি আনয়নের কাজে ব্যয় করেন। তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য গজনিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি পাঠাগার ও একটি জাদুঘর স্থাপন করেন। তিনি বহু স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। 'শাহনামা' লেখার জন্য তিনি কবি ফেরদৌসকে ৬০,০০০ স্বর্ণ মুদ্রা প্রদান করেন। তার দরবারে কবি উনসুরি ও ফররুখী নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এছাড়া বিশিষ্ট জ্যোতির্বিদ আল বিরুনী, ঐতিহাসিক উতবি, দার্শনিক আল ফারাবি ও বাইহাকি তার রাজ্যসভাকে অলংকৃত করতেন। তিনি অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, সুরম্য সৌধ, অট্টালিকা প্রভৃতি নির্মাণ করে রাজধানী গজনিকে সুসজ্জিত করেন এবং সর্বাপেক্ষা সুন্দর নগরীতে পরিণত করেন। জন মার্শালের মতে, স্থাপত্য ও ইসলামি শিল্পকলা বিস্তারে গজনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি শিল্পকলার বিকাশে গজনি কেবল মাধ্যমই ছিল না, বরং এটি সাসানীয়দের নিকট থেকে উপকরণ' সংগ্রহ করে সমৃদ্ধিশালী স্থাপত্য শিল্প গড়ে তুলেছিল।