উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত প্রাক-মুসলিম ভারতীয় সমাজের বর্ণ বৈষম্যের মিল রয়েছে।উদ্দীপকে দেখা যায়, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। সম্প্রতি তিনি স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের হয়ে বেশ ভালো পারফর্ম করলেও গ্যালারি থেকে কিছু দর্শক তার উদ্দেশে আপত্তিকর (বর্ণবাদী) মন্তব্য করে। মূলত তিনি কালো বর্ণের হওয়ায় প্রায়ই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন। এখানে ইসলামপূর্ব ভারতের সামাজিক অবস্থার বর্ণ বৈষম্য ফুটে ওঠেছে। মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের সময় ভারতের সামাজিক অবস্থা শোচনীয় ছিল এবং এখানে জাতিভেদ ও বর্ণভেদ প্রথা ছিল প্রকট। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র-এ চার শ্রেণিতে হিন্দু সমাজ বিভক্ত ছিল। এক শ্রেণির সাথে অন্য শ্রেণির ছেলেমেয়ের বিয়েশাদী, সামাজিক লেনদেন কল্পনাই করা যেত না। এসময়ে বৈশ্যদের ধর্মীয় বাণী শোনা অপরাধ ছিল। তারা সকল সুবিধা বঞ্চিত ছিল। সামাজিক বিভেদ জাতীয় চেতনা গঠনের অন্তরায় ছিল। সকল সুযোগ-সুবিধা ব্রাহ্মণরা ভোগ করত। আল-বেরুনি তার প্রখ্যাত 'কিতাব-আল-হিন্দ' গ্রন্থে হিন্দুদের জাতিভেদ উদ্ভূত সংকীর্ণ মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করেন। বর্ণভেদজনিত কারণে ব্রাহ্মণরা সাধারণত ধর্ম-কর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকত। ক্ষত্রিয়রা যুদ্ধবিগ্রহ, বৈশ্যরা ব্যবসায় বাণিজ্য ও শূদ্ররা কৃষি ও সাধারণ বৃত্তি পেশায় নিয়োজিত ছিল।অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের বর্ণবাদী সমাজের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।