জালালউদ্দিনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত বিজয়ের ভারবর্তী ইতিহাস ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়। মন্তব্যটি যথার্থ।মুহাম্মদ ঘুরী তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে রাজা পৃথ্বিরাজকে পরাজিত করে ভারতবর্ষে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তরাইনের যুদ্ধ ছিল 'ভাগ্য নির্ধারণী যুদ্ধ। ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, মুহাম্মদ ঘুরী বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তরাইনের ২য় যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী হিন্দু সামরিক নেতাদের হত্যা করেন। তরাইনের ২য় যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর মুসলিম বাহিনী একে একে বিভিন্ন অঞ্চল দখল করেন। তারা হানসি, খুরাম, সামান, আজমির দখল করেন।. কুতুবউদ্দিনের নেতৃত্বে ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দ মিরাট, দিল্লি, কোইল (বর্তমান আলীগড়) মুসলমানদের দখলে আসে। কুতুবউদ্দিন দিল্লিতে রাজধানী স্থাপন করেন। ১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ ঘুরী চান্দেয়ার যুদ্ধে কনৌজের। রাজা জয়চন্দ্রকে পরাজিত করেন। মুহাম্মদ ঘুরী ভারতবর্ষ শাসন পরিচালনার জন্য কুতুবউদ্দিন আইবেকের ওপর দায়িত্ব দিয়ে গজনিতে ফিরে যান। যার ফলে ভারতের রাজনৈতিক দিগন্তে আমূল পরিবর্তন। সূচিত হয়। এভাবে ভারতে বিজয়ী হয়ে মুহাম্মদ ঘুরী তার সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেকের নিকট ভারতের শাসনভার অর্পণ করে স্বীয় রাজধানী গজনিতে ফিরে যান। ফলে তার প্রতিনিধি হিসেবে কুতুবউদ্দিন আইবেক ভারতে ১২০৬ সালে স্বাধীন সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। যা দাস বংশ নামে পরিচিত। দাস বা মামলুক বংশের শাসনগণ ৯০ বছর ভারত শাসন করেন। যার ফলে ভারতে কয়েকশ বছরের জন্য ইতিহাস ভিন্ন ধারায় প্রকাশিত হয়।পরিশেষে বলা যায়, মুহাম্মদ ঘুরী বারত বিজয় করে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজ রাজ্যে ফিরে গেলে তার প্রতিনিধি কুতুব উদ্দিন আইবেক ভারতে মামলুক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।