উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের কর্মকান্ডের সাথে আমার পঠিত শাসক সুলতান মাহমুদের কর্মকান্ডের মিল রয়েছে।উদ্দীপকের যোসেফ নামক একজন শাসক বারবার পার্শ্ববর্তী দেশে অভিযান চালান এবং প্রতিবারের সকল অভিযানের পর দেশে ফিরে যান। অভিযানে তিনি যেসব ধনসম্পদ অর্জন করতেন, তা নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে শিক্ষা বিস্তার, শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যয় করতেন।এভাবে তার রাজ্য একটি সমৃদ্ধিশালী ও সুসজ্জিত রাজ্যে পরিণত হয়। একইভাবে গজনির শাসক সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১০২৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সতেরোবার ভারত অভিযান পরিচালনা করেন এবং এ সময় এখান থেকে প্রচুর ধনসম্পদ আফগানিস্তানে নিয়ে যান।এসব সম্পদ দ্বারা তিনি স্বীয় রাজ্যের উন্নতি ও সমৃদ্ধি আনয়নের কাজে ব্যয় করেন। তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য গজনিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি পাঠাগার ও একটি জাদুঘর স্থাপন করেন। তিনি বহু স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। 'শাহনামা' লেখার জন্য তিনি কবি ফেরদৌসকে ৬০,০০০ স্বর্ণ মুদ্রা প্রদান করেন। তার দরবারে কবি উনসুরি ও ফররুখী নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এছাড়া বিশিষ্ট জ্যোতির্বিদ আল বিরুনী, ঐতিহাসিক উতবি, দার্শনিক আল ফারাবি ও বাইহাকি তার রাজ্যসভাকে অলংকৃত করতেন। তিনি অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, সুরম্য সৌধ, অট্টালিকা প্রভৃতি নির্মাণ করে রাজধানী গজনিকে সুসজ্জিত করেন এবং সর্বাপেক্ষা সুন্দর নগরীতে পরিণত করেন। জন মার্শালের মতে, স্থাপত্য ও ইসলামি শিল্পকলা বিস্তারে গজনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি শিল্পকলার বিকাশে গজনি কেবল মাধ্যমই ছিল না, বরং এটি সাসানীয়দের নিকট থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে সমৃদ্ধিশালী স্থাপত্য শিল্প গড়ে তুলেছিল।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে যোসেফ নামক শাসকের সাথে সুলতান মাহমুদের সাদৃশ্য রয়েছে।