উক্ত অভিযান তথা সিন্ধু অভিযানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল- মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের ফলে সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথার বিলোপ সাধিত হয়। সমাজে বর্ণে বর্ণে হিংসা, অবহেলা বন্ধ হয়। ইসলামি সমাজে প্রবশ করে হিন্দু সমাজের মানুষ মুক্তির স্বাদ লাভকরে। সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজে সবাই মিলেমিশে বাস করতে থাকে। ইতিহাসবিদ ঈশ্বরী প্রাসাদের ভাষায়, "But the effects of this conquest upon Muslim culture were refound and far-reaching." অর্থাৎ মুসলিম সংস্কৃতির ওপর এ বিজয়ের ফলাফল ছিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী। সিন্ধু বিজয়ের ফলে আরব ও ভারতবর্ষ উভয়েই উপকৃত হয়। কারণ কৃষ্টির গতি একমুখী নয়, উভয়মুখী (Two-way traffic)। বিভিন্ন জাতি থেকে প্রাপ্ত সংস্কৃতি আরবীয় মুসলিমগণ ভারতীয় সাংস্কৃতিক সংস্পর্শে নিয়ে আসেন। ফলে ভারতীয় সংস্কৃতিক- গ্রিক, মিসরীয়, পারসিক ও আরবীয় সংস্কৃতির সাথে মিশ্রণের ফলে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ লাভ করে। অপরদিকে, আবরগণ ভারতীয় দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, চিকিৎসাশাস্ত্র, সংগীত, শিল্পকলা প্রভৃতির সংস্পর্শে আসেন। পরবর্তী সময়ে আব্বাসীয় শাসনামলে বহু সংস্কৃত গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। আরবের বহু শিক্ষার্থী ভারতে এসে জ্ঞানার্জন করতেন। তেমনি ভারতের বহু পন্ডিত আব্বাসীয় রাজধানী বাগদাদে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, আরবদের সিন্ধু বিজয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।