উক্ত শাসক তথা মুহাম্মদ ঘুরীর সামরিক সফলতার কারণগুলো ছিল উন্নত সামরিক কৌশল, শত্রুপক্ষের বিশৃঙ্খলা ও অদম্য সাহস।
মুহাম্মদ ঘুরীর আক্রমণের সময়ে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থা বিশৃঙ্খল ছিল এবং ভারত সামরিকভাবে দুর্বল ছিল। অপরদিকে, মুহাম্মদ ঘুরীর সেনাবাহিনী সুশৃঙ্খল ছিল, রণকৌশলে দক্ষ ছিল এবং তার সেনাপতিরা সুদক্ষ ছিল। মুহাম্মদ ঘুরীর সামরিক সফলতার কারণ হলো-
প্রথমত, এসময় ভারতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজন্যবর্গের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব-কলহ বিরাজমান ছিল। মূলত রাজন্যবর্গের রাজনৈতিক অনৈক্য মুসলিম বাহিনীর সফলতার অন্যতম কারণ। ভি. ডি. মহাজন বলেন, "There was no one paramount power in the country at that time which could fight against the Muslims."
দ্বিতীয়ত, মুসলিমদের উন্নত যুদ্ধকৌশল, সামরিক দক্ষতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং অপূর্ব শৃঙ্খলা বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে। অপরদিকে, হিন্দুদের ত্রুটিপূর্ণ সনাতন যুদ্ধনীতি; সেকেলে যুদ্ধাস্ত্র ও অনুন্নত রণকৌশল তাদেরকে পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেয়। তদুপরি তাদের মন্থরগতিসম্পন্নহস্তিবাহিনী মুসলিমদের ক্ষিপ্রগতির অশ্বারোহী বাহিনীর ক্ষিপ্র আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়।
তৃতীয়ত, জাতি ও বর্ণভেদ প্রথা হিন্দুদের মধ্যে চরম বৈষম্য তৈরি করেছিল। অপরদিকে সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব মুসলমানদের মধ্যে সংঘবদ্ধ আক্রমণে অনুপ্রাণিত করে। ফলে মুসলিমরা সহজেই বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হন।
চতুর্থত, মুসলমানদের মধ্যে কুতুবউদ্দিন আইবেক, বখতিয়ার খলজির মতো বহুসংখ্যক সুদক্ষ সেনাপতির আবির্ভাব ঘটেছিল। যারা যুদ্ধের ময়দানে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে মুসলিম বিজয় ত্বরান্বিত করেছিল।
পঞ্চমত, ভারতের অফুরন্ত ধনসম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষা মুসলমানদের ভারত আক্রমণে প্রলুব্ধ করে এবং বিজয় অর্জনে সক্ষম হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ভারতীয় রাজন্যবর্গের অনৈক্য, সামরিক অস্ত্র, দক্ষতার অভাব, রণকৌশলে দুর্বলতা মুহাম্মদ ঘুরীর সামরিক সফলতার পথকে প্রশস্ত করেছিল।