সিন্ধু অভিযানকে 'নিষ্ফল বিজয়' বলা যায় না। কারণ মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর পর সিন্ধু ও মুলতানে আরব শাসন প্রায় দেড়শ বছর স্থায়ী হয়েছিল ।
আরবদের সিন্ধু বিজয়ের পথ ধরে পরবর্তী সময়ে মুসলমানরা ভারতে প্রবেশ করে। মুহাম্মদ বিন কাসিমের পথ অনুসরণ করেই সুলতান মাহমুদ ও মুহাম্মদ ঘুরি ভারতে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সিন্ধু বিজয়ের পর আরব সৈন্যদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে ভারতে বসতি স্থাপন করেন । তারা বিজিত অঞ্চলে বহু রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন। ইতিহাসবিদ টড 'রাজস্থানের ইতিহাস' গ্রন্থে আরবদের সিন্ধু বিজয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন ।
সিন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর ধর্মীয় ফলাফল ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এ বিজয়ের ফলে অসংখ্য পির-দরবেশ ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্ম প্রচারের জন্য আসেন; যাদের প্রভাবে সাম্য, মৈত্রী, উদারতা ও সহিষ্ণুতার প্রতীক ইসলাম ধর্মে দলে দলে নির্যাতিত হিন্দু সম্প্রদায় যোগদান করতে থাকে। সিন্ধু ও মুলতানে আরব প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আরবদের সাথে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে আরবরা সর্বপ্রথম হিন্দু সম্প্রদায়ের নিবিড় সংস্পর্শে আসার সুযোগ পায়। ফলে উভয়ের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি হয়। আর্য ও সেমেটিক জাতির এ মিলন ভারতবর্ষে নতুন সমাজব্যবস্থার সৃষ্টি করে। আরবদের কল্যাণমুখী শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো সংরক্ষণ প্রভৃতি কাজ উভয়ের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে। প্রকৃতপক্ষে হিন্দু-মুসলিমের এ সহাবস্থানই পরবর্তী সময়ে ভারতে নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছিল।
উপরের আলোচনা থেকে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আরবদের সিন্ধু অভিযান কোনোভাবেই নিষ্ফল বিজয় ছিল না। বরং এ বিজয়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় প্রভাব ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।