উক্ত ঘটনার ফলে ভারতবর্ষের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়। উক্তিটি যথার্থ
মুহাম্মদ ঘুরির ভারত অভিযানের ফলাফল ছিল সুদৃঢ় প্রসারী।ঘুরির পূর্বে মুহাম্মুদ বিন কাশিম এবং সুলতান মাহমুদের বিজয়াভিমানের মাধ্যমে ভারতবর্ষে স্থায়ী মুসলিম শাসনের পথ তৈরি না হলেও মুহাম্মদ ঘুরির মাধ্যমে যে মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়েছিল তা সুলতানি ও মুঘল শাসনামলে প্রসারিত হয়েছিল। এ জয়ের ফলে ভারতে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ইসলামের যাত্রা শুরু হয়। ইসলামের সাম্যভিত্তিক শাসনের অনুপ্রেরণা থেকে হিন্দুরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে।মুসলিম বিজয়ের ফলে শাসক বর্গের প্রয়োজন মেটাতে আরব,পারস্য,তুর্কি অঞ্চল থেকে পণ্য আমদানি শুরু হলে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি ঘটে এবং নানা শিল্পে বিকাশ ঘটে। স্থানীয় কারিগর শ্রেণীর জীবনমান উন্নত হতে থাকে। ভারতে উন্নত মুসলিম শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটে এবং নতুন ধারার স্থাপত্য নির্মাণের সূত্রপাত ঘটে। ঘুরির প্রতিনিধি কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমিরে আড়াই 'দিনকা ঝোপড়া মসজিদ' এবং দিল্লিতে 'কুওয়াতুল ইসলাম' নামে যে মসজিদ নির্মাণ করেন তা ভারতে ইন্দো মুসলিম স্থাপত্য রীতির সূচনা করে। ভারতে তিনি যে মুসলিম সাম্রাজ্যের গোড়াপতন করেন তা প্রায় ৭০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়,মুহাম্মুদ ঘুরির ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য বিস্তারের ফলে ভারতবর্ষের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়।