শেয়ারFacebookWhatsApp

ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলা হয় কেন?

উত্তর: ৩,৪০০ মাইল সমুদ্র সমতট সংবলিত ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বাস। আর্যদের আগমন থেকে শুরু করে আধুনিককালে ইউরোপীয়দের আগমন পর্যন্ত বহু জাতি ভারতে প্রবেশ করেছে। প্রাচীন যুগে আর্য, দ্রাবিড়, পারসিক প্রভৃতি; মধ্যযুগে আরব, তুর্কি, আফগান, মুঘল এবং আধুনিক যুগে ইউরোপীয়রা ভারতবর্ষে আগমন করে। ফলে ভারতবর্ষ এক মহামানবের সাগরে পরিণত হয়েছে। মূলত এজন্যই ঐতিহাসিক স্মিথ ভারতবর্ষকে নৃতত্ত্বের জাদুঘর বলে আখ্যা দিয়েছেন।

HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল

ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলা হয় কেন?

উদ্দীপক

রাজিব যে সমাজে বসবাস করত সে সমাজটি নানা জাতিভেদ প্রথা ও শ্রেণি বৈষম্যে বিভক্ত ছিল। সেখানে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত-এ চার শ্রেণির মানুষ বসবাস করত। সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম ছিল প্রকট। অধিকাংশ লোক নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণিতে বসবাস করলেও তাদের তেমন কোনো অধিকার বা সামাজিক মর্যাদা ছিল না। প্রথম দুই শ্রেণিই সমাজের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং তাদের হাতেই ছিল মূলত সকল ক্ষমতা।

Dhaka · 2025

উত্তর

মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে সিন্ধুর রাজধানী ছিল আলোর।

উত্তর

৩,৪০০ মাইল সমুদ্র সমতট সংবলিত ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বাস। আর্যদের আগমন থেকে শুরু করে আধুনিককালে ইউরোপীয়দের আগমন পর্যন্ত বহু জাতি ভারতে প্রবেশ করেছে। প্রাচীন যুগে আর্য, দ্রাবিড়, পারসিক প্রভৃতি; মধ্যযুগে আরব, তুর্কি, আফগান, মুঘল এবং আধুনিক যুগে ইউরোপীয়রা ভারতবর্ষে আগমন করে। ফলে ভারতবর্ষ এক মহামানবের সাগরে পরিণত হয়েছে। মূলত এজন্যই ঐতিহাসিক স্মিথ ভারতবর্ষকে নৃতত্ত্বের জাদুঘর বলে আখ্যা দিয়েছেন।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজের সাথে প্রাক-মুসলিম ভারতের হিন্দু সমাজের বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজিব যে সমাজে বসবাস করত সে সমাজটি নানা জাতিভেদ প্রথা ও শ্রেণি বৈষম্যে বিভক্ত ছিল। সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম ছিল প্রকট। নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের তেমন কোনো অধিকার বা সামাজিক মর্যাদা ছিল না। প্রথম দুই শ্রেণিই সমাজের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং তাদের হাতেই ছিল মূলত সকল ক্ষমতা। যা প্রাক মুসলিম ভারতের হিন্দু সমাজের বৈষম্যের অনুরূপ। আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের পূর্বে ভারতের সামাজিক অবস্থা শোচনীয় ছিল। তখন ভারতবর্ষের সমাজব্যবস্থায় বর্ণভেদ প্রথা চালু ছিল। পেশাগত ভিত্তিতে সমাজ ৪টি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র-এ চারটি বর্ণ বিদ্যমান ছিল। ব্রাহ্মণরা পূজা-অর্চনা পরিচালনা ও অধ্যাপনা করত। ক্ষত্রিয়রা পেশায় ছিল সৈনিক। বৈশ্যরা ব্যবসায় বাণিজ্য করত। আর শূদ্ররা কৃষিকাজ, মৎস্য শিকার ও অন্যান্য কাজ করত। সমাজে বৈশ্য ও শূদ্রদের সংখ্যা বেশি হলেও তারা ছিল অবহেলিত ও বঞ্চিত। তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো। অন্যদিকে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা ছিল সমাজে মর্যাদাবান। ধর্মকর্ম ও শিক্ষাদীক্ষায় তাদের একাধিপত্য ছিল। ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা অন্য বর্ণের লোকের সাথে সামাজিক মেলামেশা করত না। এক বর্ণের সাথে অন্য বর্ণের লোকের বিবাহ হতো না। সমাজে সহমরণ প্রথা চালু ছিল। বর্ণভেদ প্রথা এতই প্রকট ছিল যে, ব্রাহ্মণরা শূদ্রদের অস্পৃশ্য বলে মনে করত। তারা শূদ্রদের ছায়া মাড়াত না। এতে নাকি তারা অপবিত্র হয়ে যেত। এমনকি শূদ্রদের গীতা শোনাও নিষিদ্ধ ছিল।অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজের সাথে প্রাক মুসলিম ভারতের হিন্দু সমাজের বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজের অবস্থা যেন প্রাক-মুসলিম ভারতবর্ষের আর্থসামাজিক চিত্র- মন্তব্যটি যথার্থ। মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের সময় ভারতের সামাজিক অবস্থা শোচনীয় ছিল এবং এখানে জাতিভেদ ও বর্ণভেদ প্রথা ছিল প্রকট। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র-এ চার শ্রেণিতে হিন্দু সমাজ বিভক্ত ছিল। এক শ্রেণির সাথে অন্য শ্রেণির ছেলেমেয়ের বিয়েশাদী, সামাজিক লেনদেন কল্পনাই করা যেত না। এসময়ে বৈশ্যদের ধর্মীয় বাণী শোনা অপরাধ ছিল। তারা সকল সুবিধা বঞ্চিত ছিল। সামাজিক বিভেদ জাতীয় চেতনা গঠনের অন্তরায় ছিল। সকল সুযোগ-সুবিধা ব্রাহ্মণরা ভোগ করত। বর্ণভেদজনিত কারণে ব্রাহ্মণরা সাধারণত ধর্ম-কর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকত। ক্ষত্রিয়রা যুদ্ধবিগ্রহ, বৈশ্যরা ব্যবসায় বাণিজ্য ও শূদ্ররা কৃষি ও সাধারণ বৃত্তি পেশায় নিয়োজিত ছিল। গবেষক ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইনাম-উল-হক বলেন, "হিন্দুদের মধ্যে শ্রেণিবিভাগ নীতি নিম্নস্তরের লোকদের ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।" সমাজে একাধিক বিবাহ প্রথা প্রচলিত থাকলেও বিধবা বিবাহ প্রথার প্রচলন ছিল না। প্রাচীন ভারতে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে সহমরণ বরণ করতে হতো- যা সতীদাহ প্রথা নামে খ্যাত। সতীদাহ বলতে বোঝায় স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে সামাজিক রীতি অনুযায়ী স্বামীর চিতায় পুড়িয়ে মারার রীতি। সমাজে অস্পৃশ্যতাও বজায় ছিল। মৌর্যযুগে ভারতবর্ষে দাসপ্রথা সামাজিক অনুশাসনে পরিণত হয়। নারীদের হাটবাজারে ক্রয়-বিক্রয় করা হতো এবং তাদেরকে প্রাসাদে দাসদাসীরূপে নিয়োগ করা হতো। তবে মৌর্য যুগে ভারতীয় সমাজে নারীদের মর্যাদা ছিল এবং তারা সাহিত্য ও দর্শনে কৃতিত্বের অধিকারী ছিল। হিন্দুধর্ম ও সমাজের ওপর মন্তব্য প্রসঙ্গে ড. ঈশ্বরীপ্রসাদ বলেন, "ধর্ম কুসংস্কারে ভারাক্রান্ত ছিল এবং সমাজ একটি কঠোর বর্ণ নীতির আওতায় আবদ্ধ ছিল। যা বিভিন্ন দলের মধ্যে ঐক্য স্থাপনকে অসম্ভব করে তুলেছিল।" সামন্ততান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় রাজা, ব্রাহ্মণ ও অভিজাতদের তুলনায় নিম্নবর্ণের লোকদের নিদারুণ কষ্টভোগ করতে হতো। কৃষককুল হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রাক-মুসলিম ভারতবর্ষের আর্থসামাজিক অবস্থার অনুরূপ চিত্র ফুটে ওঠেছে।
HSCIslamic History 2nd paperDhaka 2025
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.শের শাহ মৌলিক প্রতিভার পরিচয় দেন-

Dhaka · 2017

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

Dhaka · 2017

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.ভারতের প্রাচীনতম অধিবাসী কারা?

Dhaka · 2017

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলা হয় কেন?
i. গজনী অধিকার
ii. হিরাত অধিকার
iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.ভারতবর্ষেল প্রাচীনতম অধিবাসী কারা?

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:দেশটির স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা তখন কারাগারে। বিকল্প নেতার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের তীব্রতায় রাজপথ রঞ্জিত হয়। নিহতদের আত্মত্যাগে শেষ পর্যন্ত এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।Q. উক্ত আন্দোলনের ফলাফল ছিল-
i. শেখ মুজিবুর রহমান এর কারা মুক্তি
ii. আইয়ুবের পতন
iii. গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম নিচের কোনটি সঠিক?

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:দেশটির স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা তখন কারাগারে। বিকল্প নেতার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের তীব্রতায় রাজপথ রঞ্জিত হয়। নিহতদের আত্মত্যাগে শেষ পর্যন্ত এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।Q. উদ্দীপকের অনুরূপ ৬৯'র গণঅভুত্থানে নিহতরা-

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.আগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?

Combined · 2019

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ-
i. বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র
ii. স্বাধীনতার দিক নির্দেশনা
iii. বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণানিচের কোনটি সঠিক?

Combined · 2019

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.শেরশাহের প্রকৃত নাম ছিল-

Combined · 2019

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.হাম্মদ বিন তুঘলক দেবগিরির কী নাম রাখেন?

Combined · 2019

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

শের শাহ মৌলিক প্রতিভার পরিচয় দেন-সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?ভারতের প্রাচীনতম অধিবাসী কারা?আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলা হয় কেন?i. গজনী অধিকারii. হিরাত অধিকারiii. উক্ত ভারতবর্ষেল প্রাচীনতম অধিবাসী কারা?নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:দেশটির স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যানিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:দেশটির স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যাআগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ-i. বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্রii. স্বাধীনতার দিক নশেরশাহের প্রকৃত নাম ছিল-হাম্মদ বিন তুঘলক দেবগিরির কী নাম রাখেন?

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।