উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজের সাথে প্রাক-মুসলিম ভারতের হিন্দু সমাজের বৈষম্যের মিল খুঁজে পাওয়া য়ায়।উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমন যে সমাজে বসবাস করত সে সমাজটি নানা জাতিভেদ প্রথা ও শ্রেণি বৈষম্যে বিভক্ত ছিল। সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম ছিল প্রকট। নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের তেমন কোনো অধিকার বা সামাজিক মর্যাদা ছিল না, যা প্রাক মুসলিম ভারতের হিন্দু সমাজের বৈষম্যের অনুরূপ। আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের পূর্বে ভারতের সামাজিক অবস্থা শোচনীয় ছিল। তখন ভারতবর্ষের সমাজব্যবস্থায় বর্ণভেদ প্রথা চালু ছিল। পেশাগত ভিত্তিতে সমাজ ৪টি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র-এ চারটি বর্ণ বিদ্যমান ছিল। ব্রাহ্মণরা পূজা-অর্চনা পরিচালনা ও অধ্যাপনা করত। ক্ষত্রিয়রা পেশায় ছিল সৈনিক। বৈশ্যরা ব্যবসায় বাণিজ্য করত। আর শূদ্ররা কৃষিকাজ, মৎস্য শিকার ও অন্যান্য কাজ করত। সমাজে বৈশ্য ও শূদ্রদের সংখ্যা বেশি হলেও তারা ছিল অবহেলিত ও বঞ্চিত। তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা ছিল সমাজে মর্যাদাবান। ধর্মকর্ম ও শিক্ষাদীক্ষায় তাদের একাধিপত্য ছিল। ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা অন্য বর্ণের লোকের সাথে সামাজিক মেলামেশা করত না। এক বর্ণের সাথে অন্য বর্ণের লোকের বিবাহ হতো না। সমাজে সহমরণ প্রথা চালু ছিল। বর্ণভেদ প্রথা এতই প্রকট ছিল যে, ব্রাহ্মণরা শূদ্রদের অস্পৃশ্য বলে মনে করত। তারা শূদ্রদের ছায়া মাড়াত না। এতে নাকি তারা অপবিত্র হয়ে যেত। এমনকি শূদ্রদের গীতা শোনাও নিষিদ্ধ ছিল।অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজের সাথে প্রাক মুসলিম ভারতের হিন্দু সমাজের বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা উদ্দীপকে বর্ণিত সুমনের সমাজে যেরূপ শ্রেণি বৈষম্য ছিল অনুরূপ অবস্থা মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের সমাজে ছিল।