উদ্দীপকের আহমদ শাহের মতো মুহাম্মদ ঘুরীও বিজয়ীর বেশে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন। মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা মূল্যায়ণ করা হলো-
মুহাম্মদ ঘুরী ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হয়েও নতুন উদ্যমে দ্বিতীয়বার ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে ভারত অভিযান করে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে রাজা পৃথ্বিরাজকে পরাজিত করে ভারতবর্ষে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তরাইনের যুদ্ধ ছিল ভাগ্যনির্ধারণী যুদ্ধ। ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, "He conquered the country and aimed at permanent settlement."১৭ অর্থাৎ, (মুহাম্মদ ঘুরী) বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তরাইনের ২য় যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী হিন্দু সামরিক নেতাদের হত্যা করেন। তরাইনের ২য় যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর মুসলিম বাহিনী একে একে বিভিন্ন অঞ্চল দখল করেন। তারা হানসি, খুরাম, সামান, আজমির দখল করেন। কুতুবউদ্দিনের নেতৃত্বে ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দ মিরাট, দিল্লি, কোইল (বর্তমান আলীগড়) মুসলমানদের দখলে আসে। কুতুবউদ্দিন দিল্লিতে রাজধানী স্থাপন করেন। ১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ ঘুরী চান্দেয়ার যুদ্ধে কনৌজের রাজা জয়চন্দ্রকে পরাজিত করেন। একটি তীর জয়চন্দ্রের চোখে লাগে। এ আঘাতে তিনি মারা যান। অশনি (Asni) দুর্গে রক্ষিত জয়চন্দ্রের ধনসম্পদ মুহাম্মদ ঘুরী নিজে হস্তগত করেন। এরপর তিনি বেনারস দখল করেন। ভি. ডি. মহাজনের বর্ণনামতে, ১৪,০০০ উট ভর্তি ধনসম্পদ মুহাম্মদ ঘুরী অর্জন করেন। ১১৯৭ খ্রিষ্টাব্দে বদাউন, গুজরাট, মালব এবং ১২০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে কালিঞ্জর মুসলমানদের দখলে আসে। এভাবে ভারতের একটি বৃহৎ অংশ মুসলমানদের দখলে আসে। মুহাম্মদ ঘুরী ভারতবর্ষ শাসন পরিচালনার জন্য কুতুবউদ্দিন আইবেকের ওপর দায়িত্ব দিয়ে গজনিতে ফিরে যান। যার ফলে ভারতের রাজনৈতিক দিগন্তে আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়।
এভাবে ভারতে বিজয়ী হয়ে মুহাম্মদ ঘুরী তার সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেকের নিকট ভারতের শাসনভার অর্পণ করে স্বীয় রাজধানী গজনিতে ফিরে যান।