উদ্দীপকের জমিদার শ্যামল রায়ের মতো উক্ত সুলতানকেও তার বংশের পতনের জন্য দায়ী করা যায় কি? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: হ্যাঁ, উদ্দীপকের জমিদার শ্যামল রায়ের মতো উক্ত সুলতানকেও। অর্থাৎ সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলককেও তার বংশের পতনের জন্য দায়ী করা যায়। উদ্দীপকের শ্যামল রায় জমিদারের প্রতি প্রজাদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক জনকল্যাণকর কাজ করেন। তিনি প্রজাদের বকেয়া মাফ করেন এবং আবার ঋণ প্রদান করেন। তবে অধিক হারে ঋণ প্রদান ও বেহিসেবি দান খয়রাতের ফলে রাজকোষে ব্যাপক অর্থ ঘাটতি দেখা দেয়, যা জমিদারকে দুরাবস্থায় ফেলে দেয়। শ্যামল রায়ের মতো দিল্লির সুলতান ফিরোজশাহ তুঘলকও তার বংশের পতনের জন্য দায়ী ছিলেন। ফিরোজ শাহ তুঘলকের মানবীয় সংস্কার ও উদারনীতির মধ্যে তুঘলক বংশের পতনের বীজ নিহত ছিল। তার কোনো কোনো নীতি ও কার্যাবলি শুধু তুঘলক বংশের নয়, দিল্লি সালতানাতের পতনের জন্যও দায়ী ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। সমাজের বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলা দমনে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তার আরেকটি বড় ভুল ছিল জায়গিরদারি প্রথার পুনঃ প্রবর্তন। এর ফলে অভিজাতবর্গ ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং কেন্দ্রীয় শাসনের ক্ষমতা শিথিল হয়ে পড়ে। তিনি সেনাবাহিনীতে বংশানুক্রমিক চাকরির অধিকার প্রদান করে সাম্রাজ্যের স্থায়িত্বের মূলে কুঠারাঘাত করেন। তার সৃষ্ট ক্রীতদাস বাহিনীর ভরণপোষণে রাজকোষের প্রচুর অর্থ অপচয় হয়। ফলে রাজকোষ প্রায় শূন্য হয়ে পড়ে। সুলতান যুদ্ধনীতি পরিহার করায় সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি শাসনকাজে উলামাদের প্রাধান্য দেওয়ায় অসুন্নি মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের রোষানলে পতিত হন। তার সময়ে অপরাধীদের শাস্তি প্রদান রহিত করার ফলে দুর্নীতি বেড়ে যায় এবং দুর্নীতিপরায়ণ কর্মচারীরা সরকারি অর্থ সম্পদ লুট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর এ সকল কর্মকাণ্ড তুঘলক বংশকে পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। পরিশেষে বলা যায় যে, ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসননীতি ও কার্যাবলি তুঘলক বংশের পতন এমনকি সালতানাতের পতনের পথকে সুগম করেছিল।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের জমিদার শ্যামল রায়ের মতো উক্ত সুলতানকেও তার বংশের পতনের জন…
উদ্দীপক
Comilla · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর