চিত্রের শাসকের মহাপরিকল্পনাসমূহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ১ চিত্রের শাসক হলেন মুহাম্মদ বিন তুঘলক। মুহাম্মদ বিন তুঘলকের মহাপরিকল্পনাগুলো হলো- ক. রাজধানী স্থানান্তর (১৩২৬-২৭ খ্র.), খ. তথাকথিত খোরাসান অভিযান (১৩২৭-২৮ খ্রি.), গ. প্রতীক তাম্রমুদ্রা প্রচলন (১৩২৯-৩০ খ্রি.), ঘ. চীন (কারাচিল) অভিযান (১৩৩২ খ্রি.), ঙ. দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি (১৩৩৪ খ্রি.)। ১৩২৬-২৭ খ্রি. সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক রাজধানী দিল্লি হতে দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। দেবগিরির নতুন নাম দেওয়া হয় দৌলতাবাদ। দেবগিরি হতে দিল্লি, গুজরাট, লক্ষণাবতী, সাতগাঁও, সোনারগাঁও, তেলাঙ্গ, মেবার, দ্বারসমুদ্র এবং কাম্পিলা প্রায় সমদূরবর্তী ছিল। এজন্য দিল্লি হতে প্রায় ৭০০ মাইল দক্ষিণে | দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি ৫টি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এগুলো হলো- রাজধানী স্থানান্তর, তথাকথিত খোরাসান অভিযান, প্রতীক তাম্রমুদ্রা প্রচলন, কারাচিল অভিযান এবং দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লি থেকে দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তরের আদেশ দেন। কিন্তু জনগণ দেবগিরির নতুন পরিবেশের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারেনি। উপরন্তু সাম্রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল মোঙ্গল আক্রমণের কাছে অরক্ষিত হয়ে পড়লে আবার দিল্লিতে রাজধানী ফিরিয়ে আনা হয়। সুলতান পারস্যের একটি অংশ খোরাসান জয়ের মনোবাসনা করেছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি ৩ লক্ষ ৭০ হাজার সৈন্য সংগ্রহ করেন এবং তাদের এক বছর ভরণ-পোষণ করেন। কিন্তু খোরাসান অভিযানের দুরূহতার কথা হৃদয়ঙ্গম করে এ অভিযান বাতিল করেন। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ছিল তাম্রমুদ্রা প্রচলন। মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতীকী তাম্রমুদ্রা প্রচলন করেছিলেন। কিন্তু জনগণের অসহযোগিতার কারণে তার এ পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়েছিল। এছাড়া মুহাম্মদ বিন তুঘলকের কারাচিল অভিযান ও দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক শাসনতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজনে দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
চিত্রের শাসকের মহাপরিকল্পনাসমূহ ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর