উদ্দীপকে রাহাত টেলিভিশনে দিল্লি সালতানতের পতনের যে কারণগুলো প্রত্যক্ষ করেছে তার বর্ণনা দাও।
উত্তর: কিশোর রাহাত দিল্লির সালতানাত পতনের অনেকগুলো কারণ প্রত্যক্ষ করেছিল। তার মধ্যে প্রধান ছিল দুটি। দিল্লি সালতানাত ছিল ব্যক্তিনির্ভর একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসন। এতে সমগ্র ক্ষমতার উৎস ছিলেন স্বয়ং সুলতান। সুলতানের নিজস্ব ক্ষমতার ওপর সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা নির্ভরশীল ছিল। সুলতান শক্তিমান ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হলে সাম্রাজ্যে সুশাসনসহ সর্বত্র নিয়মশৃঙ্খলা বজায় থাকত। অন্যদিকে সুলতান অযোগ্য, ব্যক্তিত্বহীন ও দুর্বল হলে সাম্রাজ্যে অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠত। বুঢ় হলেও সত্য যে দিল্লি সালতানাতের তিন শ বছরের শাসনকালে সুলতান ইলতুৎমিশ, গিয়াসউদ্দিন বলবন, আলাউদ্দিন খলজি এবং মুহাম্মদ বিন তুঘলক ছাড়া প্রায় সকল সুলতানই ছিলেন অকর্মণ্য, দুর্বল ও অযোগ্য। ব্যক্তিনির্ভর একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসন ব্যবস্থায় এসব দুর্বল সুলতানদের শাসনামলে সাম্রাজ্যের সর্বত্র বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রকট আকার ধারণ করে। পরিণামে দিল্লি সালতানাতের পতন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। জনসমর্থন বা জনগণের স্বাভাবিক আনুগত্যের ওপর নয় সুলতানি শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল সামরিক শক্তির ওপর। সামরিক বাহিনীর কর্মক্ষমতা ও শক্তিমত্তার ওপর সাম্রাজ্যের স্থায়িত্বের বিষয়টি জড়িত ছিল। কিন্তু সুলতানি যুগে সবসময় সেনাবাহিনীর শক্তিমত্তাকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। সেনাবাহিনীর কর্মকুশলতা রক্ষা এবং তাদের দুর্নীতিমুক্ত রাখার লক্ষ্যে আলাউদ্দিন খলজি সেনাবাহিনী থেকে জায়গির প্রথার উচ্ছেদসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরোজ শাহ তুঘলকের সময় জায়গির প্রথা পুনঃপ্রবর্তনসহ সেনাবাহিনীতে বংশানুক্রমিক নিয়োগনীতি গ্রহণের ফলে সেনাবাহিনী দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এ দুর্বল সেনাবাহিনীর পক্ষে বিশাল সাম্রাজ্যের সংহতি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে রাহাত টেলিভিশনে দিল্লি সালতানতের পতনের যে কারণগুলো প্রত্যক…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর