চিত্রে যে দুর্গটির ছবি দেওয়া হয়েছে সে দুর্গটি ফিরোজ শাহ। তুঘলকের শাসনামলের।
ফিরোজ শাহ ছোটবড় অনেক নগরের পত্তন করেন। ফিরোজ শাহ দিল্লিতে অবস্থিত ফাতেহাবাদ, হিসার, জৌনপুর, ফিরোজপুর নগরগুলো পত্তন করেন। সুলতান এসব নগরীতে ৪টি মসজিদ, ৩০টি প্রাসাদ, ২০০টি সরাইখানা, ৫টি খাল, ৪টি হাসপাতাল, ১০০টি ব্রিজ, শতাধিক মিলার, ১০টি গোসলখানা, ১০টি স্মৃতিসৌধ এবং পর্যটকদের জন্য ১০৫টি কূপ নির্মাণ করেন। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত ফিরোজাবাদ নগরটি সুলতানের খুব প্রিয় ছিল। সুলতান দিল্লিতে দার- উল-শিফা, বিমারিস্তান ও শিফাখানা নামে হাসপাতাল নির্মাণ করেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের হাসপাতালগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হতো। হাসপাতালের ডিসপেনসারিতে অনেক ওষুধ ছিল এবং রোগীদের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হতো। সাম্রাজ্যের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মালিক গাজী সাহানা। তার সহকারী ছিল আব্দুল হক। বাগান ছিল সুলতানের অন্যতম শখ। সুলতান দিল্লির উপকণ্ঠে ১২০০ বাগান নির্মাণ করেন। তিনি, পুরাকীর্তি সংরক্ষণেরও নজর দিয়েছিলেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম সংস্কারগুলো হচ্ছে কুতুবমিনার, আলাউদ্দিন খলজির সমাধি এবং শেখ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার স্মৃতিসৌধ। সুলতানের নির্দেশে মৌর্য সম্রাট অশোক নির্মিত দুটি স্তম্ভের একটি মিরাট এবং আমবালা জেলার টোপরা হতে ১টি দিল্লিতে আনা হয়। একটি স্তম্ভ ফিরোজাবাদের জামে মসজিদের দরজায় এবং অন্যটি দিল্লির হাসপাতালের নিকটবর্তী স্থানে স্থাপন করা হয়। ফিরোজ শাহ একজন বিখ্যাত নির্মাতা ছিলেন। সুলতান একজন বিখ্যাত উদ্যানপাল ছিলেন।
সুলতানের নির্মিত বাগানগুলো হতে বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টঙ্কা রাজস্ব আদায় হতো। এ বাগানগুলো হতে দিল্লি নগরীর অধিবাসীদের খাদ্য সমস্যারও কিছুটা সমাধান হয়েছিল।