হ্যাঁ, আমি মনে করি, অনলাইন শপিং ফলপ্রসূ করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহের মতো সুলতান আলাউদ্দিন খলজিও তার মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বহুবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অন লাইন শপিং ব্যবস্থা ফলপ্রসূ করার জন্য পণ্যের সঠিক ওজন ও গুণগত মানের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে। এছাড়া পণ্যের সরবরাহ নির্বিঘ্ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দ্রব্য সামগ্রীর বিপুল সমাহার রাখা হয়েছে। ফলে এটি জনগণের নিকট অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঠিক একইভাবে সুলতান আলাউদ্দিন খলজিও তার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর কার জন্য কিছু যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাউদ্দিন খলজি পণ্য বাজার স্থাপন করেন। তিনি দিল্লিতে মান্ডি নামে প্রধান ও কেন্দ্রীয় শস্য বাজার বসান। ঔষধপত্র, কাপড়, শুকনো ফল, চিনি, মাখন এবং জ্বালানি তেলের বাজার বসানো হয় দিল্লির বাদায়ুন তোরণে 'সেহরা আদলে'। এ সময়ে পণ্য বাজার পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের জন্য 'শাহানা ই মাস্তি' এবং 'দিউয়ান ই রিয়াসত' নামক দুজন পদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যশস্যসহ পণ্য আমদানি এবং নির্দিষ্ট মূল্যে তা বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ব্যবসায়ীদের পণ্য মূল্য টানিয়ে রাখার নির্দেশ ছিল। নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত আদায় ও ওজন পরিমাপে কারচুপি করা হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো। প্রাকৃতিক কারণে যাতে খাদ্য ঘাটতি না পড়ে এবং চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যশস্য সরবরাহ সুনিশ্চিত করা যায় সেজন্য দিল্লিতে একটি রাজকীয় শস্যাগার স্থাপন করা হয়েছিল। পণ্য বরাদ্দ নির্ধারণের মাধ্যমে সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী একটি পরিবারের সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও অধিক মুনাফার লোভে কেউ যাতে পণ্যের মজুতদারি না করতে পারে সুলতান সে ব্যবস্থা করেন। মজুতদারি নিরোধে জরিমানা ও পণ্য বাজেয়াপ্ত করা সহ নানা রকমের শাস্তি দেওয়া হতো। এ সকল ব্যবস্থাসহ সুলতান দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সুলতান আলাউদ্দিন খলজি তার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।