উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দিল্লি সালতানাতের সুলতান আলাউদ্দিন খলজির কর্মকান্ডের মিল রয়েছে।
সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ১২৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতারোহণ করেই নানামুখী সংস্কার ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। সুলতানের এ সংস্কার কার্যগুলোর মধ্যে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্যতম। মূলত আলাউদ্দিন খলজি সাম্রাজ্যের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিধান, জনসাধারণের সুবিধা, মুদ্রাস্ফীতি রোধ, বিশাল সৈন্যবাহিনীর ভরণ-পোষণ এবং সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব ও সংহতি বিধানের জন্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।
উদ্দীপকে একটি বাজারের দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীল অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় করছে না। এ রকম অবস্থার প্রেক্ষিতেই সুলতান আলাউদ্দিন খলজি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
আলাউদ্দিন খলজি খাদ্যশস্য সুলভ মূল্যে ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন- গম, বার্লি, চাল, চিনি, আটা, ডাল, তৈল, সোডা ইত্যাদির মূল্য নির্ধারণ করে দেন। এছাড়া তিনি বস্ত্র, পশু ও অন্যান্য দ্রব্যাদির মূল্যের তালিকা করে দেন। আলাউদ্দিন খলজি কেবল দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি দ্রব্যাদির চাহিদা অনুসারে সরবরাহের ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে খাদ্যঘাটতি পূরণ করার উদ্দেশ্যে তিনি দিল্লির উপকন্ঠে এবং রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি শস্যভান্ডার গড়ে তোলেন। তিনি লোভী ব্যবসায়ীদের মজুদদারি নিরোধে তাদের নামের তালিকাকরে জরিমানা ও পণ্য বাজেয়াত করাসহ নানা ধরনের শাস্তিপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি বস্তু, পশু ও অন্যান্য দ্রব্যাদির মূল্যের তালিকা করে দেন। উদ্দীপকে এরকমই একটি মূল্যতালিকার কথা বলা হয়েছে, যা আলাউদ্দিন খলজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দৃষ্টান্ত বহন করছে।