উদ্দীপকে উল্লিখিত জমিদার শ্যামল রায়ের সাথে সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের সাদৃশ্য রয়েছে।
দিল্লি সালতানাতের তুঘলক বংশের অন্যতম খ্যাতিমান শাসক ছিলেন ফিরোজ শাহ তুঘলক। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি সালতানাতের ক্ষমতা গ্রহণে বাধ্য হয়েছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। উদ্দীপকের জমিদার শ্যামল রায়ের মধ্যে এ শাসকেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, বিদ্রোহ দমন করতে যেয়ে জমিদার প্রবাল রায়ের মৃত্যু হয়। এরপর তার চাচাতো ভাই শ্যামল রায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে জমিদারির দায়িত্ব নেন। তিনি জমিদার হওয়ার পর অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। অনুরূপভাবে তাকির বিদ্রোহ দমন করত গিয়ে সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক মৃত্যুবরণ করেন। মুহাম্মদ বিন তুঘলকের মৃত্যুর পর তার চাচাতো ভাই ফিরোজ শাহ অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমির ও অভিজাতগণের উপর্যুপরি অনুরোধ এবং সাম্রাজ্যের বাস্তব সংকটজনক অবস্থা বিবেচনা করে সালতানাতের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ক্ষমতা গ্রহণ করেই তিনি প্রজা কল্যাণে মনোনিবেশ করেন। প্রজাকল্যাণমূলক কার্যাবলির জন্য তিনি ইতিহাসে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তার সময়ে দরিদ্র, অনাথ ও বিধবাদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া হতো, তিনি পূর্ববর্তী সুলতানের দেওয়া ঋণ মওকুফ করে দেন। কৃষি ও বাণিজ্যের উন্নতির জন্য তিনি বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের জমিদার শ্যামল রায়ের সাথে দিল্লির সুলতান ফিরোজশাহ তুঘলকের মিল রয়েছে।