উক্ত শাসক অর্থাৎ বলবনের গৃহীত পদক্ষেপ সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল- কথাটি যথার্থ।
মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসে বলবন ছিলেন একজন ক্ষমতাধর শাসক। তিনি দিল্লি সালতানাতের এক সংকটাপূর্ণ মুহূর্তে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলা দমনের জন্য বলবন 'রক্তপাত ও কঠোর নীতি' গ্রহণ করেন। ফলে সালতানাতের গৌরব ও. মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং সাম্রাজ্যে শান্তি বজায় থাকে।
প্রাদেশিক বিদ্রোহ দমন এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবেলা করার জন্য • উদ্দীপকে বর্ণিত শাসক মি. আলেক্সের মতো সামরিক সংস্কার করে বলবন ভারতে একটি শক্তিশালী ও সুদক্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। সুলতান বলবন তার শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে দুর্ধর্ষ মোঙ্গল বাহিনীর একাধিক আক্রমণও প্রতিহত করেন। দিল্লি সালতানাতের কর্তৃত্ব ও মর্যাদা সুদৃঢ় করার জন্য বলবন মেওয়াটি উপজাতি এবং দোয়াব অঞ্চলের বিদ্রোহসহ অন্যান্য বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করেন। ষড়যন্ত্রকারী তুর্কি অভিজাত শ্রেণি 'চল্লিশ চক্রের' সদস্যদের তিনি নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেন। ফলে শাসনক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় হয়। রাজতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য তিনি প্রজাদের শরিয়তের আইন বাস্তবায়ন, পাপাচার ও দুর্নীতি বিলোপ, ধার্মিক ও সদ্বংশীয় লোকদের রাজ কাজে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। জনমনে ভীতি ও শ্রদ্ধার উদ্রেক করার জন্য বলবন সাসানীয় সম্রাটদের মতো জমকালো রাজদরবার প্রতিষ্ঠা এবং রাজদরবারে সুলতানকে 'সিজদাহ' (অভূিমি কুর্ণিশ) ও 'পায়বুস' (পদচুম্বন) করার রীতি প্রচলন করেন।
সুলতান বলবনের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে দিল্লি সালতানাতের গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসে। মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করে ভারতের উত্তর-পশ্চিম 'সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার সামরিক নীতি সফল বলে প্রমাণিত হয়। এসব দিক পর্যালোচনা করে বলা যায়, সুলতান বলবনের গৃহীত পদক্ষেপ দিল্লি সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল।'