উদ্দীপকে মি. মাহিনের সাথে উক্ত সুলতান অর্থাৎ সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের রাজকীয় মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সাদৃশ্য লক্ষ্যণীয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. মাহিন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়ে চেয়ারম্যানের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য- নিজ অফিস কক্ষটি জমকালোভাবে সজ্জিত করেন। প্রশাসনিক শক্তি সম্পর্কে কর্মচারীদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেন। তিনি অফিসে সার্বক্ষণিক নজরদারিরও ব্যবস্থা করেন। উদ্দীপকের মি.। মাহিনের মতো সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ-এর শ্বশুর সুলতান। গিয়াসউদ্দিন বলবনও রাজকীয় মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনঃরায় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রাজতন্ত্রের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন-
১. সিংহাসনে বলবনের বংশগত কোনো দাবি ছিল নাআই জনসম্মুখে আত্মসম্মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি নিজেকে পৌরাণিক বীর 'আফরাসিয়াবের' বংশধর বলে দাবি করেন।
২. তিনি পৃথিবীতে নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করেন।
৩. রাজতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি ধর্ম রক্ষা ও শরিয়তের শাসন কায়েম, পাপাচার ও দুর্নীতি বিলোপ, ধার্মিক ও সদ্বংশীয় লোকদের রাজকাজে নিয়োগ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
৪. জনমনে ভীতি ও শ্রদ্ধায় উদ্রেক করার জন্য বলবন সেলজুক ও খাওয়ারিযম রাজকীয় ঐতিহ্যের অনুকরণে জমকালো রাজদরবার প্রতিষ্ঠা এবং সুলতানের আভিজাত্য রক্ষা ও তার অবাধ ক্ষমতা প্রমাণের জন্য পারস্য রীতি অনুযায়ী রাজদরবারে সুলতানকে 'সিজদাহ' (আভূমি কুর্ণিশ) ও 'পায়বুস' (পদচুম্বন) করার রীতি প্রচলন করেন। রাজদরবারের মর্যাদা ও গাম্ভীর্য রক্ষায় রাজসভায় লঘু চপলতা, হাসি ঠাট্টা বারণ এবং মদ্যপান ও নৃত্য-গীত নিষিদ্ধ করা হয়।
৫. বলবন সুলতানের ব্যক্তিগত সমমর্যাদা, বাহ্যিক আড়ম্বর ও - মর্যাদার ব্যাপারে বিশেষ সচেতন ছিলেন। তিনি সবসময় জনসাধারণের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতেন। সবসময় রাজকীয় পোশাকে সজ্জিত থাকতেন। নীচ বংশীয় লোকদের সাথে মেলামেশা বা কথাবার্তা ও তাদের কোনো দান ও উপহার গ্রহণ করতেন না।