সুলতান ইলতুৎমিশ ছিলেন দিল্লির প্রাথমিক তুর্কি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৃপতি।
সামান্য ক্রীতদাস থেকে ইলতুৎমিশ নিজ যোগ্যতা ও প্রতিভাবলে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি কিছু অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখোমুখী হন। প্রথমেই তিনি বিদ্রোহী আমিরদের পরাজিত করে অযোধ্যা, বেনারস, বদায়ূন ও সিওয়ালিতে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন। নাসিরউদ্দিন কুবাচা স্বাধীনতা ঘোষণা করে লাহোর পর্যন্ত অগ্রসর হলে ইলতুৎমিশ তাকে পরাজিত করেন। বখতিয়ার খলজির মৃত্যুর পর বাংলার খলজি মালিকগণ দিল্লির আনুগত্য অস্বীকার করলে ইলতুৎমিশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করেন। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনের পর সুলতান ইলতুৎমিশ প্রশাসনের দিকে নজর দেন। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য সুলতান ইলতুৎমিশ সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতকগুলো ইকতায় বিভক্ত করেন এবং প্রত্যেক ইকতার একজন করে ইকতাদার নিযুক্ত করেন। নিজ নিজ এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ছাড়াও ইকতাদারগণ রাজস্ব সংগ্রহ করত। সুলতান ইলতুৎমিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল 'রূপাইয়া' নামে খাঁটি আরবি রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন। তিনি সাম্রাজ্যের সর্বত্র অসংখ্য সড়ক, সরাইখানা নির্মাণ করেছিলেন। রাজ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং ধনী-দরিদ্র সবাই যেন বিচার পায় সেজন্য তিনি প্রাসাদে একটি শিকলে ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখতেন। বিচার প্রার্থীরা ঘণ্টা বাজিয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। ইলতুৎমিশ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার দরবারে বহু কবি-সাহিত্যিক, বিদ্বান ও সুফি সাধকের সমাবেশ ঘটেছিল।
পরিশেষে বলা যায়, শাসক হিসেবে ইলতুৎমিশের কৃতিত্ব অসাধারণ।