উদ্দীপকের খালি বক্সে যে শাসকের নাম যুক্তিসংগত তিনি হলেন কুতুবউদ্দিন আইবেক।
সর্বজনবিদিত যে, কুতুবউদ্দিন আইবেক বাল্যকালে ক্রীতদাস ছিলেন। নানা প্রতিকূলতাকে প্রতিহত করে তিনি সামান্য ক্রীতদাস থেকে ভারতের স্বাধীন সুলতান ছিলেন এটাই তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। মুহাম্মদ ঘুরীর জীবদ্দশায় তার ওপর অর্জিত ভারতের অধিকৃত অঞ্চলের প্রশাসনিক দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করেন। আবার দিল্লি সিংহাসনের অধিকর্তা হিসেবেও তিনি তার প্রশাসনিক দক্ষতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হন। তিনি সুলতানি সাম্রাজ্যের বিস্তার অপেক্ষা সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা ও সংগঠনের দিকে বেশি দৃষ্টি দেন। বিশেষ করে তাজউদ্দিন ইলদুজের আগ্রাসন হতে দিল্লিকে রক্ষা করে দিল্লি সুলতানির ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করেন। এভাবেই তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন। তিনি সাধারণ সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে নিজ যোগ্যতা, দক্ষতা, সমরকুশলতা ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেকে আস্তাবলের প্রধান হিসেবে উন্নীত করেন। যুদ্ধের পারদর্শিতা দিয়েই তিনি মুহাম্মদ ঘুরীর সুনজর লাভ করেন। আইবেক ছিলেন প্রধানত সামরিক নায়ক। তিনি তার সামরিক প্রজ্ঞা দ্বারা তাজউদ্দিন ইলদুজ ও বিদ্রোহী রাজপুতদের মোকাবিলা করেন। কুতুবউদ্দিন আইবেক তার শাসনামলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। একজন দানশীল সুলতান হিসেবে তার যথেষ্ট ছিল।
এর প্রমাণস্বরূপ বলা যায়, তিনি 'লাখবখশ' বা লক্ষ মুদ্রা দানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার দরবার হতে কেউ খালি হাতে ফিরে আসেনি। তিনি ইসলাম ধর্মের একনিষ্ঠ ভক্ত হলেও উগ্র ছিলেন না।