উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উল্লিখিত সরকারের সাথে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির অর্থনৈতিক সংস্কারের পদক্ষেপসমূহ সাদৃশ্যপূর্ণ। তার প্রবর্তিত সংস্কারসমূহের মধ্যে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ছিল অন্যতম।
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনিই একজন শাসক, যিনি সাম্রাজ্য ও সাধারণ জনগণের কল্যাণার্থে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক সংস্কার সাধন করেন। তার প্রবর্তিত মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সফল করার জন্য তিনি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রথমত, সুলতান আলাউদ্দিন খলজি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর পাশাপাশি কাপড়, গো-মহিষ, অশ্ব প্রভৃতির মূল্য নির্ধারণ করে দেন। ব্যবসায়ী ও দোকানদারগণ নির্ধারিত মূল্যের বেশি দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হতো এবং সেজন্য তাদের শাস্তির বিধান ছিল। দ্বিতীয়ত, আলাউদ্দিন খলজি সকল ব্যবসায়ীর স্ত্রী-পুত্র-কন্যা ও অপরাপর আত্মীয়স্বজনকে জামিন রেখে বাজারে খাদ্যদ্রব্য নিয়মিত সরবরাহ করার ব্যবস্থা করেন। তৃতীয়ত, পণ্যদ্রব্য মজুত করে যাতে মুজতদাররা কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে পণ্য দ্রব্যের মূল্য বাড়াতে না পারে সুলতান তারও ব্যবস্থা করেন। চতুর্থত, মূল্যনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কার্যকর করার জন্য আলাউদ্দিন খলজি গুদাম নির্মাণ করেন। উৎপন্ন ফসল থেকে রাজস্ব আদায় করে তা গুদামে মজুত রাখা হতো।। পঞ্চমত, এ ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা তা নিরীক্ষণ ও তদারকির জন্য সুলতান একটি শক্তিশালী গুপ্তচর বাহিনী গঠন করেন। সুলতান আলাউদ্দিন খলজি গৃহীত ও কঠোরভাবে কার্যকর কত দ্রুত মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে প্রতিটি জিনিসের মূল্য নির্দিষ্ট হারে নির্ধারিত হওয়ায় চরম অভাবের সময় ও জনগণ দ্রব্যের উচ্চ মূল্যের চাপ অনুভব করেনি। এতে উদ্দীপকের বর্ণিত জনসাধারণের ন্যায় তার সাম্রাজ্যের জনগণও সস্তায় ও সুলভে পণ্য ক্রয়ের সমর্থ হয়েছিল।
এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক বারানী বলেন, তখনকার দিনে বাজারে শস্যের অপরিবর্তিত মূল্য সত্যিই বিস্ময়কর বলে মনে হতো। আর এ বিস্ময়কর কাজ সম্ভবপর হয়েছিল সুলতান আলাউদ্দিন খলজির গৃহীত ও কার্যকরকৃত কঠোর ব্যবস্থাপনার কারণে।