উদ্দীপকের সুলতান-জামালের মাঝে আমার পাঠ্যপুস্তকের ফিরোজ শাহ তুঘলকের প্রভাব লক্ষণীয়।
ফিরোজ শাহ তুঘলক উদার শাসক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন। তিনি শাসনব্যবস্থার বহুবিধ সংস্কার প্রবর্তন করেন। তিনি উলামা ও অভিজাতশ্রেণির ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের সাথে পূর্ব থেকে (মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে) পরিচিত ছিলেন। এজন্য তিনি সিংহাসনে আরোহণ করে উলামা ও অভিজাতদের পূর্বতন পদে ও গৌরবে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করেন। আলাউদ্দিন খলজি ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক উভয়ই জায়গির প্রথা বিলুপ্ত করতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি জায়গির প্রথা ফিরিয়ে আনেন। সতীশ চন্দ্রের ভাষায়, "He decreed that whenever a noble died, his son should be allowed to succeed to his position, including his Iqta and if the had no son, his son-in- law and in his absence, his slave." অর্থাৎ তিনি ঘোষণা দেন যে, যখন কোনো অভিজাত মারা যাবে, তখন তার পুত্র ইকতার মালিক হবে। পুত্র না থাকলে তার জামাতা, জামাতা না থাকলে তার দাস উক্ত ইক্কার মালিক হবে। ফিরোজ শাহ অভিজাতদের ওপর দমনপীড়ন নীতি প্রত্যাহার করে নেন। অনেকের মতে, সুলতানের অভিজাত প্রীতি ছিল সুলতানি সাম্রাজ্যের ভাঙনের অন্যতম কারণ। ঈশ্বরীপ্রসাদ বলেন, "The welfare of the people was the watch ward to his administration." অর্থাৎ, জনকল্যাণকর তার শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল। তিনি সকল অবৈধ কর প্রত্যাহার করে নেন। তিনি শরিয়তভিত্তিক কর চালু করেন। ফিরোজ শাহ তুঘলকের জনকল্যাণমুখী শাসননীতির কারণে জনগণ সুখশান্তিতে বসবাস করতে সক্ষম হয়।
সতীশচন্দ্র বলেন, "His reign was a period of peace and of quiet devolopment." অর্থাৎ, তার রাজত্বকাল ছিল সুখ-শান্তি ও উন্নয়নের যুগ।