উক্ত শাসক তথা সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন দিল্লি সালতানাত দৃঢ়করণে ব্যাপক রক্তপাত ও কঠোর নীতি গ্রহণ করেন- যা যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে যে শাসকের কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন গিয়াসউদ্দিন বলবন। তিনি দিল্লির সালতানাতের সুদৃঢ়করণে ব্যাপক রক্তপাত ও 'কঠোর নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তার সাম্রাজ্য সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ নীতি প্রয়োগ করেন। নিজে একসময় চল্লিশচক্রের সদস্য থাকায় গিয়াসউদ্দিন বলবন সুলতানদের দুর্বলতার সুযোগে অভিজ্ঞদের পর্দার আড়ালের রাজনীতি সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। এজন্য অশুভ প্রভাব বলয় খর্ব করে সুলতানের মর্যাদা ও ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তিনি বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। রাজপদকে বংশগত ও অভিজাত দাবিকে শক্ত করার জন্য তিনি নিজেকে পারস্যের বিখ্যাত আফ্রাসিয়ারের বংশধর বলে ঘোষণা করেন। চল্লিশচক্রের ক্ষমতাকে ক্রমান্বয়ে ধূলিসাৎ করার জন্য নিম্নপদস্থ তুর্কিদের পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রদান করে চল্লিশচক্রের সমপর্যায়ে নিয়ে আসেন। চল্লিশচক্রের সদস্য ও বদায়ুনের গভর্নর মালিক বারবাককে তার চাকরকে প্রহার করার কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রভাবশালী অভিজাত অযোধ্যার গভর্নর হায়াত খানকে একজন মদ্যপ হত্যা করার কারণে পাঁচ শ চাবুক না মেরে নিহতের বিধবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। অযোধ্যার অন্য এক গভর্নর আমিন খানকে বাংলার বিদ্রোহী গভর্নর তুঘ্রিলের হাতে পরাজিত হওয়ার কারণে অযোধ্যার নগর তোরণের সামনে ফাঁসি দেওয়া হয়।
এছাড়া ভাতিন্দা, ভাটনা, সামানা ও সুনামের গভর্নর এবং অভিজাতদের সদস্য ও নিজের আত্মীয় শেরখানকে বলবন প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে বিষপ্রয়োগে হত্যা করেন। এভাবে তিনি তুর্কি অভিজাত ও আমিরদের মাঝে আতঙ্ক ভীতি ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।