উক্ত সম্রাটের অর্থাৎ সম্রাট আকবরের 'রাজপুত নীতি' ছিল তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এক অনন্য পরিচায়ক।
সম্রাট আকবর উপলব্ধি করেছিলেন যে, সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী করতে হলে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী রাজপুতদের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন অপরিহার্য। এ জন্য তিনি রাজপুত বংশের সাথে বৈবাহিক মিত্রতা স্থাপন করেন। এভাবে তিনি রাজপুতদের বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি লাভে সক্ষম হন। আবুল ফজলের 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থ থেকে জানা যায়, আকবর রাজপুতদের প্রশাসনিক ও সামরিক বিভাগের উচ্চপদগুলোতে নিযুক্ত করে তাদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা লাভ করেন। আবার, বিজিত রাজ্যগুলোর শাসনভার রাজপুতদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সাম্রাজ্যের ভিতকে শক্তিশী করেন।
রাজপুতদের প্রতি সম্রাটের বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব ও সদয় আচরণ ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাস এক নবযুগের সূচনা করে। এর ফলে রাজ্যবিস্তার ও রাজ্যশাসনের ব্যাপারে এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে হিন্দু তথা রাজপুতরা অনস্বীকার্য অবদান রাখে। রাজপুতদের প্রতি আকবরের উদার আচরণের ফলে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুজাতি আকবরকে বিদেশি শাসক বলে মনে করেন নি। তাদের সাহায্যেই আকবর বিস্তীর্ণ মেবার অধিকার করতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং রাজপুত সেনানিদের সাহায্যেই আকবরের বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপিত হয়েছিল। সম্রাট আকবর কখনই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিংবা ধর্মীয় উদ্দেশ্য নিয়ে রাজপুতনায় হস্তক্ষেপ করেননি। প্রকৃতপক্ষে সম্রাট আকবর সমস্ত রাজপুতদের নিজরাজ্যের অংশীদার করে নেওয়ায় সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায় মুঘল সাম্রাজ্যের অনুগত হয়ে পড়েছিল। রাজপুত নীতিই আকবরকে মধ্য যুগের ভারতবর্ষের ইতিহাসে উদারতার এক মূর্ত বিগ্রহে পরিণত করেছে। এ নীতির সূত্র ধরেই তিনি 'মহামতি' আখ্যায় বিভূষিত হয়েছেন।
উপর্যুক্ত আলোচনা হতে একথা সুস্পষ্ট যে, সম্রাট আকবরের রাজপুত নীতির কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় ও শতাধিক বছর স্থায়ী হয়েছিল।