উক্ত নীতির ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো :
আকবরের রাজপুত নিতে ভারতের মুঘল শাসনের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আকবরের রাজপুত নীতি ভারতের রাজনৈতি, অর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই নীতির ফলে ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির সম্পর্ক তৈরি হয়। আকবরের উদারনীতির কারণে রাজপুত্তরা মুগলদের প্রতি বিরোধিতার নীতি ত্যাগ করে। এমনকি তারা মুঘল শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক মোড়ল্যান্ড বলেন, "এই নীতির ফলে রাজপতদের অধিকাংশ সুনির্দিষ্টভাবে সম্রাটের অনুগত হয়ে পড়ে। যার ফলে তিনি ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ ৫০ হাজার অশ্বারোহী বাহিনীর সেবা লাভের অধিকারী হয়েছিলেন। ভি.এ.স্মিথ বলেন, "আকবরের বিভিন্ন পদক্ষেপ রাজপুতদের সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয় এবং তারা বাবরের কাছে পরাজয়ের আঘাত সহজে ভুলে যায়। বিদেশি নয় বরং আকবরকে 'জাতীয় নরপতি' হিসেবে মেনে নিয়ে রাজপুতরা মুঘল সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব বিধানে সহযোগিতা করে।" ঐতিহাসিক উট বলেন, "সম্রাট আকবরই প্রথম সফল বিজেতা, যিনি রাজপুতদের সোনার শিকল দিয়ে বাঁধতে সক্ষম হয়েছিলন এবং এ বাঁধনই মুসলমান রাজত্বকালে তাদের রাজনৈতিক মর্যাদা এনে দিয়েছিল।" বস্তুত রাজপুত নীতি মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসে সম্রাট আকবরের উদারতার এক মূর্ত প্রতিকে পরিণত করেছিল।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, সম্রাট আকবরের রাজপুতনীতির কারণে ভিত সূদৃঢ় হয়।