উক্ত শাসকের বংশ তথা শাহজাহানের বংশের শাসনব্যবস্থা ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
মুঘল শাসনব্যবস্থা সম্রাটকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হতো। সম্রাট ছিলেন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী। মুঘল সম্রাটগণ একাধারে প্রশাসনিক প্রধান, প্রধান বিচারক, প্রধান সমরনায়ক এবং, আইনের শেষ আশ্রয়স্থল ছিলেন। সাম্রাজ্যে নিযুক্ত সকল কর্মচারীর নিয়োগ, বদলি, শাস্তি, পদোন্নতি, পদচ্যুতি, পুরস্কার, মনসব বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সম্রাট অফুরন্ত ক্ষমতা সংরক্ষণ করতেন। দেওয়ান সাম্রাজ্যের আয়-ব্যয়ের বিভাগের দায়িত্ব পালন করতেন। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করতেন। দেওয়ান প্রশাসনিক নির্বাহী প্রধান ছিলেন। তিনি সুবাদার, আমিন, দারোগা, তহশিলদার, মুহতাসিব, মীর বকশী, দারোগা-ই-তোপখানা প্রভৃতি কর্মচারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে ক্ষমতাবান অফিসার ছিলেন। মুঘল আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই সন্তোষজনক। বৈদেশিক পর্যটকেরা মুঘল দরবারে ঔশ্বর্য এবং মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা স্বচক্ষে দেখে এর ভূয়সী প্রশংসা করে গেছেন। আকবরের রাজত্বে আর্থিক সচ্ছলতা ও সার্বিক উন্নতি সাধিত হয়। এ সময়ে আগ্রা, লাহোর ও ফতেহপুর সিক্রি সমৃদ্ধ নগরীতে রূপান্তরিত হয়। শুধু জল ও স্থলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা থাকায় মুঘল রাজত্বে ব্যবসায় বাণিজ্যের পৃষ্ঠপোষকতা এবং পলিক ও বণিকদের সুবিদার জন্য প্রয়োজনীয় সরাইখানা ও বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়। এ সময় মুঘল বহিঃবাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিশেষ উন্নতি সাধিত হয়। কে. কে. দত্ত বলেন, "মুঘল শাসনের উল্লেখযোগ্য সময় জুড়ে ভারতের সাথে বহির্বিশ্বে সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সম্পাদিত হতো।" ভারতবর্ষের কৃষি ও শিল্পজাত দ্রব্যের মধ্যে চাল, গম, চিনি, নানা প্রকারের মসলা, গন্ধক, লবণ, সিল্ক ও সুতিবস্ত্র ইউরোপ ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করা হতো।
তাই বলা যায়, মুঘল শাসন ভারতের রাজনীতি ও অর্থনীতিতের ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।