উদ্দীপকে সম্রাট আকবরের শাসনব্যবস্থার কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে সম্রাট আকবরের প্রাদেশিক শাসন তথা বিকেন্দ্রীকরণের দিকটি ফুটে ওঠেছে।উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা)-এর শাসনামলে পুরো সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়। প্রদেশগুলো প্রাদেশিক গভর্নর বা ওয়ালি কর্তৃক শাসিত হতো। উমর (রা) ব্যক্তিগতভাবে ওয়ালিদের নিযুক্ত করতেন। যা সম্রাট আকবরের প্রদেশিক শাসন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণকে নির্দেশ করে। তার সময়ে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য মুঘল সাম্রাজ্যকে কতকগুলো সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করা হয়। সম্রাট আকবরের শাসনামলে মোট ১৫টি সুবা বা প্রদেশ ছিল। প্রত্যেকটি প্রদেশে একটি করে রাজধানী ছিল। রাজধানী হতে সংশ্লিষ্ট প্রদেশের যাবতীয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। সম্রাট আকবরের শাসনামলে সুবা বা প্রদেশগুলো হলো আগ্রা, এলাহাবাদ, লাহোর, দিল্লি ইত্যাদি। প্রদেশগুলোর শাসনব্যবস্থা কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার আমলে গড়ে উঠেছিল। প্রদেশগুলো আবার কতকগুলো সরকারে বিভক্ত ছিল। সরকার আবার পরগনায় বিভক্ত ছিল। সুবা বা প্রদেশের নির্বাহী প্রধান ছিলেন সুবাদার। তার বহুবিধ দায়িত্ব ছিল। যেমন- প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, রাজকীয় ফরমান বাস্তবায়ন করা, রাজস্ব আদায়ে রাজস্ব কর্মচারীকে সহায়তা করা, দস্যুদের দমন করা, কৃষকদের স্বার্থরক্ষা করা প্রভৃতি। প্রদেশের রাজস্ব বিভাগের প্রধান ছিলেন দেওয়ান। 'তিনি কেন্দ্রীয় প্রশাসন কর্তৃক নিযুক্ত হতেন এবং কেন্দ্রের নিকট জবাবদিহি করতেন। ফৌজদার ছিলেন সরকারপ্রধান। সরকার ব্যবস্থা ছিল বর্তমান যুগের জেলা প্রশাসনের অনুরূপ। ফৌজদার সুবাদার কর্তৃক নিযুক্ত হতেন এবং তার নিকট জবাবদিহি করতেন। কোতোয়াল ছিলেন মূলত জেলার বা সরকারের পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি তার সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ফৌজদারকে সহায়তা করতেন। শিকদার ছিলেন পরগনার প্রধান। তিনি তার অধীন গ্রামগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুকূলে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। অতএব উদ্দীপকে সম্রাট আকবরের প্রাদেশিক শাসনের চিত্র ফুটে ওঠেছে।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে সম্রাট আকবরের শাসনব্যবস্থার কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্য…
উদ্দীপক
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর