মুঘল স্থাপত্য শিল্পে উক্ত শাসকের অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর: মুঘল স্থাপত্যশিল্পে উক্ত শাসক তথা সম্রাট শাহজাহান অনন্য প্রতিভার পরিচয় দেন। স্থাপত্য শিল্পে অপরিসীম অবদানের জন্য তিনি স্থাপত্যের রাজপুত্র উপাধিতে ভূষিত হন। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকাল ভারতবর্ষের সার্বিক ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু ও শিল্পমনস্ক। তার সময়ে মুঘল স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। স্থাপত্য শিল্পে বিস্ময়কর সাফল্য এনে তিনি বিশ্ব ইতিহাসে আজও "The prince of builders [গণিত] বা 'স্থপতির যুবরাজ' ও 'Engineer King [গণিত] হিসেবে অভিহিত হন। সম্রাট শাহজাহানের অনবদ্য, অমর ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো যমুনা নদীর তীরে আগ্রায় নির্মিত তাজমহল। এ তাজমহল সম্রাট তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজের প্রেমের নিদর্শনস্বরূপ বানিয়েছিলেন। ১৫৩২ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঐতিহাসিক আব্দুল হামিদ লাহোরির মতে, এ তাজমহল বানাতে ১২ বছর লেগেছে এবং ৫০ লক্ষ রুপি ব্যয় হয়েছে। ফরাসি পরিব্রাজক টেভার্নিয়ার ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে আগ্রায় উপস্থিত ছিলেন। তার মতে, তাজমহল নির্মাণ করতে ২২ বছর সময় লেগেছে এবং ৩ কোটি রুপি খরচ হয়েছে। সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে তার জাঁকজমকপ্রিয়তা ও আড়ম্বরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ময়ূর সিংহাসন। পারস্য শিল্পাচার্য বেবাদল খান তত্ত্বাবধানে প্রায় ৭ বছর সময়ে প্রায় ১ কোটি রুপি ব্যয়ে এ সিংহাসনটি নির্মিত হয়েছিল। সিংহাসনটির চারটি পায়া স্বর্ণ দ্বারা আচ্ছাদিত এবং এর মাথায় মণিমুক্তাখচিত শামিয়ানা ছিল। সিংহাসনটিতে উঠার জন্য হীরা চুন্নি দ্বারা সুসজ্জিত তিনটি ধাপ ছিল। ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের সম্রাট নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণ ও লুণ্ঠন করে সিংহাসনটি নিয়ে পারস্যে চলে যান। তার সময়ে আগ্রা, দিল্লি ও লাহোরে অনেক স্থাপত্য নির্মিত হয়। আগ্রায় নির্মিত দিউওয়ান-ই-আম, দিউয়ান-ই-খাস, মতি মসজিদ ইত্যাদি নির্মাণ করে। তিনি শাহজাহানাবাদ শহরও নির্মাণ করেন। এছাড়াও শাহজাহান নির্মিত স্থাপত্য গুণের মধ্যে লাহোরে নির্মিত হীরা মহল, মতিমহল, রামহল, শীর্ষ মহল ও নিজামউদ্দিন আউলিয়ার সমাধিসৌধ ছিল উল্লেখযোগ্য।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
মুঘল স্থাপত্য শিল্পে উক্ত শাসকের অবদান মূল্যায়ন কর।
Dhaka · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর