উক্ত নীতির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে সম্রাট আববর কর্তৃক দ্বীন-ই-ইলাহি মতবাদ ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও এর মাধ্যমে আকবর সফলতা লাভ করতে পারেন নি। তবুও তার এ ধর্মনীতির তাৎপর্য অপরিসীম। সম্রাট আকবর মূলত ক্ষমতাকে সুসংহত করার জন্য নতুন ধর্মনীতি প্রবর্তন করেন। যদিও আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহি প্রবর্তনের নেপথ্যে বংশীয় ও পারিবারিক প্রভাব, গৃহশিক্ষকের প্রভাব, সুফিবাদের প্রভাব, রাজপুত স্ত্রীদের প্রভাব, জৈনধর্মের প্রভাব, যুগ ধর্মের প্রভাব, মাহদি ও রাসনি মতের প্রভাব বিদ্যমান। তবুও একথা বলতে হয় যে, আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহি প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানত রাজনৈতিক, ধর্মীয় নয়। ভারতে মুঘল শক্তির স্থায়িত্ব বিধানের স্বার্থে হিন্দু-মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে একটি ঐক্য ও প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই সম্রাট ধর্মীয় ক্ষেত্রে উদার নীতি ও দ্বীন-ই-ইলাহি প্রবর্তন করেছিলেন। আকবর একই উদ্দেশ্যে রাজপুতনীতিও প্রবর্তন করেন। প্রকৃতপক্ষে আকবর তার ক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য সবকিছুই করতে পারতেন। এজন্য আমরা দেখতে পাই যে, বৈরাম খাঁ তার সর্বশক্তি দিয়ে তাকে মুঘল সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন এবং সকল শত্রু হতে রক্ষার জন্য দুর্যোগের মতো দাঁড়িয়েছিলেন, তাকে হত্যা করতেও তিনি দ্বিধা করেননি। আর এ ক্ষমতার জন্যই তিনি ইসলামকে ত্যাগ করে হিন্দুধর্মের আদলে দ্বীন-ই-ইলাহি প্রবর্তন করেন। সুতরাং, উদ্দীপকে সম্রাট আববর কর্তৃক গৃহিত ধর্মনীতি সফলতা লাভনা করলেও জাতীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় এর তাৎপর্য অপরিসীম।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উক্ত নীতির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Dinajpur · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর