উদ্দীপকে উলিখিত শাসকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মুঘল সম্রাটের দাক্ষিণাত্যনীতির তুলনা করো ।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের সাথে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির সাদৃশ্য পাওয়া যায় । সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনকালের ইতিহাসে তার দাক্ষিণাত্য নীতি একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। বিজাপুর, গোলকুণ্ডাসহ দাক্ষিণাত্যের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যসমূহ মুঘল সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হওয়ার কারণে তাদের দমনে সম্রাট বিশেষ নীতি গ্রহণ করেন। এটিই ইতিহাসে দাক্ষিণাত্য নীতি নামে পরিচিত । উদ্দীপকে এ নীতিরই প্রতিচ্ছবি লক্ষণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, সিকান্দার সাহেব শাসন ক্ষমতা লাভের পর তার সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে চরম বিদ্রোহ দেখা দেয়। এ বিদ্রোহ দমনে তিনি উল্লিখিত অঞ্চলের জন্য বিশেষ নীতি প্রবর্তন করেন। অধিক অর্থ বরাদ্দ, সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী মোতায়েন, যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ ও স্বয়ং যুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে উক্ত বিদ্রোহ দমনে তিনি আংশিক সাফল্য লাভ করেন। অনুরূপভাবে সম্রাট আওরঙ্গজেব শাসন ক্ষমতা লাভের পর দাক্ষিণাত্যের (দক্ষিণ ভারত) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুসলিম রাজ্যসমূহে বিদ্রোহ দেখা দেয়। এ সব রাজ্যসমূহ সম্রাট আওরঙ্গজেবকে কর প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠাদের শক্তি বৃদ্ধি দাক্ষিণাত্যের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করে। এই মারাঠাদের গোলকুণ্ডা ও বিজাপুর রাজ্য বিভিন্ন সামরিক সহযোগিতা দিতে থাকে। তাদের মুঘল বিরোধী কার্যকলাপে মুঘল সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। তাই সম্রাট আওরঙ্গজেব গোলকুণ্ডা, বিজাপুর দখল ও মারাঠাদের দমন করার সর্বাধিক পরিকল্পনা তথা দাক্ষিণাত্য নীতি গ্রহণ করেন। প্রচুর অর্থ ব্যয়, সামরিক সৈন্য মোতায়েন এবং নিজে যুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে সম্রাট ১৬৮১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তার জীবনের শেষ পর্যন্ত দাক্ষিণাত্য অধিকার করেই জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান। তার এ সাফল্য আপাতদৃষ্টিতে অনেক কিছু মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সম্রাট পুরোপুরি সাফল্য লাভে ব্যর্থ হন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উলিখিত শাসকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মুঘল সম্রাটের দাক্ষিণাত্…
উদ্দীপক
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর