শেয়ারFacebookWhatsApp

উক্ত শাসকের রাজপুত নীতি পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।

উত্তর: উক্ত সম্রাটের অর্থাৎ সম্রাট আকবরের 'রাজপুত নীতি' তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিল । সম্রাট আকবর উপলব্ধি করেছিলেন যে, সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী করতে হলে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী রাজপুতদের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন অপরিহার্য। এ জন্য তিনি রাজপুত বংশের সাথে বৈবাহিক মিত্রতা স্থাপন করেন। ফলে তিনি রাজপুতদের বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি লাভ করেন। আবুল ফজলের 'আইন-ই- আকবরী' গ্রন্থ থেকে জানা যায়, আকবর রাজপুতদের প্রশাসনিক ও সামরিক বিভাগের উচ্চপদগুলোতে নিযুক্ত করে তাদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা লাভ করেন। আবার, বিজিত রাজ্যগুলোর শাসনভার রাজপুতদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সাম্রাজ্যের ভিতকে শক্তিশালী করেন। রাজপুতদের প্রতি সম্রাটের বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব ও সদয় আচরণ ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। এর ফলে রাজ্যবিস্তার ও রাজ্যশাসনের ব্যাপারে এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে হিন্দু তথা রাজপুতরা অনস্বীকার্য অবদান রাখে। রাজপুতদের প্রতি আকবরের উদার আচরণের ফলে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুজাতি আকবরকে বিদেশি শাসক বলে মনে করেননি। রাজপুত সেনানিদের সাহায্যেই আকবর বিস্তীর্ণ মেবার অধিকার করতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং তার বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সম্রাট আকবর কখনই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিংবা ধর্মীয় উদ্দেশ্য নিয়ে রাজপুতনায় হস্তক্ষেপ করেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি সব রাজপুতকে নিজ রাজ্যের অংশীদার করে নেওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায় মুঘল সাম্রাজ্যের অনুগত হয়ে পড়েছিল । রাজপুত নীতিই আকবরকে মধ্যযুগের ভারতবর্ষের ইতিহাসে উদারতার এক মূর্ত বিগ্রহে পরিণত করেছে। এ নীতির সূত্র ধরেই তিনি 'মহামতি' আখ্যায় ভূষিত হয়েছেন। উপরের আলোচনা হতে একথা সুস্পষ্ট যে, সম্রাট আকবরের রাজপুত নীতির কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত সুদৃঢ় ও শতাধিক বছর স্থায়ী হয়েছিল।

HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল

উক্ত শাসকের রাজপুত নীতি পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।

উদ্দীপক

খলিফা হাকাম তার রাজ্যের সকল ধর্মাবলম্বীকে একই পতাকাতলে আনার জন্য একটি ধর্মমত প্রচলন করেন। কিন্তু এ ধর্মমতটি জনগণের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে না পারায় তার মৃত্যুর সাথে সাথে এর ইতি ঘটে।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ · 2024

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত খলিফা আল হাকিমের সাথে মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন আকবরের মিল রয়েছে। মুঘল সম্রাট আকবর ছিলেন সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ এবং দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তাই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। সব ধর্মের প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে তিনি সাম্প্রদায়িকতা দূর করার মাধ্যমে নিজেকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এটি 'দীন-ই- ইলাহি' নামে পরিচিত। তবে উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে তার এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি, যেমনটি খলিফা আল হাকিমের প্রবর্তিত ধর্মমতের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। খলিফা আল হাকিম রাজ্যের সকল ধর্মাবলম্বীকে একই পতাকাতলে সমাসীন করতে একটি নতুন ধর্মমত চালু করেন। কিন্তু এটি তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। একই পরিস্থিতি সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত 'দীন- ই-ইলাহি', ধর্মমতের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। মুঘল সম্রাট আকবরও সুলহ-ই-কুল (ধর্মীয় সহিষ্ণুতা) নীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভারতের বুকে 'দীন-ই-ইলাহি' নামক একটি জাতীয় ধর্ম প্রবর্তন করেন। ঐতিহাসিক বাদাউনী এটিকে তৌহিদ-ই-ইলাহি বা ঐশী একেশ্বরবাদী ধর্ম হিসেবে অভিহিত করেন। ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, 'সব ধর্মের উৎকৃষ্ট নীতিমালার সমন্বয়ে গঠিত এটি একটি সর্বেশ্বরবাদী ধর্ম।' বস্তুত এটিকে একটি স্বতন্ত্র ধর্ম না বলে ধর্মীয় মতবাদ হিসেবে অভিহিত করাই সমীচীন। এই মতবাদের অনুসারীবৃন্দকে সম্রাটের নামে তাদের সম্পত্তি, জীবন, সম্মান ও ধর্ম এই চারটি জিনিস উৎসর্গ করতে হতো। এ ধর্মের বিধান অনুযায়ী সম্রাটকে সিজদাহ করতে হতো। তবে মাত্র ১৮ জন এ ধর্মমত গ্রহণ করেছিলেন। সম্রাট আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথে এ ধর্মমতের বিলোপ ঘটে। সুতরাং বলা যায়, ধর্মমত প্রবর্তনের দিক দিয়ে খলিফা আল হাকিমের সাথে সম্রাট আকবরের মিল রয়েছে।

উত্তর

উক্ত সম্রাটের অর্থাৎ সম্রাট আকবরের 'রাজপুত নীতি' তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিল । সম্রাট আকবর উপলব্ধি করেছিলেন যে, সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী করতে হলে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী রাজপুতদের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন অপরিহার্য। এ জন্য তিনি রাজপুত বংশের সাথে বৈবাহিক মিত্রতা স্থাপন করেন। ফলে তিনি রাজপুতদের বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি লাভ করেন। আবুল ফজলের 'আইন-ই- আকবরী' গ্রন্থ থেকে জানা যায়, আকবর রাজপুতদের প্রশাসনিক ও সামরিক বিভাগের উচ্চপদগুলোতে নিযুক্ত করে তাদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা লাভ করেন। আবার, বিজিত রাজ্যগুলোর শাসনভার রাজপুতদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সাম্রাজ্যের ভিতকে শক্তিশালী করেন। রাজপুতদের প্রতি সম্রাটের বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব ও সদয় আচরণ ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। এর ফলে রাজ্যবিস্তার ও রাজ্যশাসনের ব্যাপারে এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে হিন্দু তথা রাজপুতরা অনস্বীকার্য অবদান রাখে। রাজপুতদের প্রতি আকবরের উদার আচরণের ফলে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুজাতি আকবরকে বিদেশি শাসক বলে মনে করেননি। রাজপুত সেনানিদের সাহায্যেই আকবর বিস্তীর্ণ মেবার অধিকার করতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং তার বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সম্রাট আকবর কখনই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিংবা ধর্মীয় উদ্দেশ্য নিয়ে রাজপুতনায় হস্তক্ষেপ করেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি সব রাজপুতকে নিজ রাজ্যের অংশীদার করে নেওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায় মুঘল সাম্রাজ্যের অনুগত হয়ে পড়েছিল । রাজপুত নীতিই আকবরকে মধ্যযুগের ভারতবর্ষের ইতিহাসে উদারতার এক মূর্ত বিগ্রহে পরিণত করেছে। এ নীতির সূত্র ধরেই তিনি 'মহামতি' আখ্যায় ভূষিত হয়েছেন। উপরের আলোচনা হতে একথা সুস্পষ্ট যে, সম্রাট আকবরের রাজপুত নীতির কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত সুদৃঢ় ও শতাধিক বছর স্থায়ী হয়েছিল।
HSCIslamic History 2nd paper
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.শের শাহ মৌলিক প্রতিভার পরিচয় দেন-

Dhaka · 2017

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

Dhaka · 2017

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.ভারতের প্রাচীনতম অধিবাসী কারা?

Dhaka · 2017

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলা হয় কেন?
i. গজনী অধিকার
ii. হিরাত অধিকার
iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.ভারতবর্ষেল প্রাচীনতম অধিবাসী কারা?

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:দেশটির স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা তখন কারাগারে। বিকল্প নেতার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের তীব্রতায় রাজপথ রঞ্জিত হয়। নিহতদের আত্মত্যাগে শেষ পর্যন্ত এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।Q. উক্ত আন্দোলনের ফলাফল ছিল-
i. শেখ মুজিবুর রহমান এর কারা মুক্তি
ii. আইয়ুবের পতন
iii. গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম নিচের কোনটি সঠিক?

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:দেশটির স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা তখন কারাগারে। বিকল্প নেতার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের তীব্রতায় রাজপথ রঞ্জিত হয়। নিহতদের আত্মত্যাগে শেষ পর্যন্ত এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।Q. উদ্দীপকের অনুরূপ ৬৯'র গণঅভুত্থানে নিহতরা-

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.আগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?

Dhaka · 2018

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?

Combined · 2019

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ-
i. বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র
ii. স্বাধীনতার দিক নির্দেশনা
iii. বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণানিচের কোনটি সঠিক?

Combined · 2019

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.শেরশাহের প্রকৃত নাম ছিল-

Combined · 2019

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.হাম্মদ বিন তুঘলক দেবগিরির কী নাম রাখেন?

Combined · 2019

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

শের শাহ মৌলিক প্রতিভার পরিচয় দেন-সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?ভারতের প্রাচীনতম অধিবাসী কারা?আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলা হয় কেন?i. গজনী অধিকারii. হিরাত অধিকারiii. উক্ত ভারতবর্ষেল প্রাচীনতম অধিবাসী কারা?নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:দেশটির স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যানিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:দেশটির স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যাআগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ-i. বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্রii. স্বাধীনতার দিক নশেরশাহের প্রকৃত নাম ছিল-হাম্মদ বিন তুঘলক দেবগিরির কী নাম রাখেন?

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।