উক্ত মহীয়সী নারীর কৃতিত্ব পর্যালোচনা করো ।
উত্তর: সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহান ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, গভীর জ্ঞান এবং অনন্য প্রতিভার অধিকারী, যার বলে তিনি প্রায় ১৫ বছর নেপথ্যে থেকে মুঘল সাম্রাজ্যকে পরিচালিত করেন। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহানের প্রেম ও পরে স্ত্রী হিসেবে শাসনকাজে প্রভাব বিস্তার মুঘল ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নূরজাহানের পিতা পারস্যের অধিবাসী মির্জা গিয়াস বেগ ভাগ্যান্বেষণে ভারতে এসেছিলেন। নানা ঘটনার পর ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহানের বিয়ে হয় । নূরজাহান স্বামীর ওপর এতটাই প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, অনেকে বলতে বাধ্য হন জাহাঙ্গীর নন, নূরজাহানই ছিলেন সাম্রাজ্যের প্রকৃত শাসক । নূরজাহান তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও আকর্ষণীয় গুণের বলে সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। নূরজাহানের অসামান্য রূপ ও গুণে মুগ্ধ হয়ে সম্রাট তাকে প্রধান মহিষীর মর্যাদা দিয়ে প্রথমে নূরমহল (প্রাসাদের আলো) এবং পরে নূরজাহান (পৃথিবীর আলো) উপাধি দেন। নূরজাহান বিয়ের পর থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্যে প্রবল প্রভাববিস্তার করেছিলেন । তিনি শাসনক্ষমতা নিজ হাতে গ্রহণ না করলেও সম্রাটকে হাতের পুতুলে পরিণত করেন। মুদ্রায় সম্রাটের সাথে তার নামও অঙ্কিত হতো। নূরজাহানের ছিল প্রখর বুদ্ধি ও অসাধারণ জ্ঞান। শিল্প-সাহিত্যের প্রতিও প্রবল আকর্ষণ ছিল তার। নূরজাহানের' এ গুণাবলি মুঘল দরবারকে গৌরব ও প্রশাসনিক সাফল্য এনে দিয়েছে। তবে তিনি এর মূল্য হিসেবে রাজপরিবার ও সাম্রাজ্যের মানুষের কাছে কূটকৌশলী ও ছলনাময়ীরূপেও পরিচিতি লাভ করেন । উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সম্রাজ্ঞী নূরজাহান তার রূপ ও অসাধারণ যোগ্যতাবলে জাহাঙ্গীরের সময় মুঘল সাম্রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ তাকে সিংহাসনের নেপথ্যের শক্তি' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উক্ত মহীয়সী নারীর কৃতিত্ব পর্যালোচনা করো ।
উদ্দীপক
Combined · 2019
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর