উদ্দীপকে উল্লিখিত সামরিক ব্যবস্থাটি মুঘল সম্রাট আকবরের প্রতিষ্ঠিত মনসবদার প্রথাকে নির্দেশ করে।
'মনসব' শব্দের অর্থ হলো পদ বা মর্যাদা। আর এ পদের অধিকারীকে মনসবদার বলা হতো। মুঘল সম্রাট আকবর তার সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা ও দক্ষতার অভাব লক্ষ করে তার আশু সংস্কারের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, ইতিহাসে তাই মনসবদারি প্রথা নামে পরিচিত। উদ্দীপকের সামরিক ব্যবস্থাও সম্রাটের এ প্রথাকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, সুলতান সুলেমান সিংহাসনে আরোহণ করে রাজ্য শাসনে পুরাতন ধ্যান-ধারণার সংস্কার করেন। তিনি বিভিন্ন পদ সৃষ্টি করে প্রত্যেকের পদমর্যাদা অনুযায়ী ক্ষমতা ও অবস্থান নির্ধারণ করে দেন। অনুরূপভাবে সম্রাট আকবর সেনাবাহিনীর তথা সামরিক ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে মনসবদারি প্রথা চালু করেন। আবুল ফজলের মতে, সাম্রাজ্যে সর্বমোট ৩৩ এবং কোনো কোনো তথ্য মতে, ৬৬টি মনসব ছিল। এ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনসবদারের অধীনে মোট দশ হাজার এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ে ১০ জন সৈন্য থাকার নিয়ম ছিল। একজন ব্যক্তির সামরিক যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সম্রাট তাকে মনসবদার হিসেবে নিয়োগ দিতেন। মনসবদারদের 'জাত' ও 'সওয়ার' নামক দুটি মর্যাদা ছিল। তাই বলা যায়, সুলতান সুলেমানের সামরিক সংস্কারের মধ্যে সম্রাট আকবরের এ মনসবদার প্রথারই প্রতিফলন ঘটেছে।