চারিত্রিক মিল থাকলেও উদ্দীপকের মাহমুদা আক্তার এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহানের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন- উক্তিটি যথার্থ।
মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহানের প্রেম-প্রণয় ও প্রভাব বিস্তার মুঘল ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নূরজাহানের প্রকৃত নাম মেহের উন নিসা। তার পিতা পারস্যের অধিবাসী মির্জা গিয়াস বেগ ভাগ্যান্বেষণে ভারতে আগমন করেন। নানা ঘটনাপ্রবাহে ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহান পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। তিনি জাহাঙ্গীরের ওপর এতটাই প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন যার দরুন অনেকে বলতে বাধ্য হন যে জাহাঙ্গীর নয়, নূরজাহানই সম্রাজ্ঞী ছিলেন।
নূরজাহানের চরিত্রের সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত মাহমুদা আক্তারের মিল থাকলেও তাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মাহমুদা আক্তারকে শুধু কোম্পানির ক্ষমতা দখল করতে দেখা যায়। কিন্তু নূরজাহান তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও আকর্ষণীয় গুণাবলি দ্বারা সম্রাটের মনের ওপরও প্রভাব ফেলেছিলেন। তিনি বিয়ের পর থেকে ১৫ বছর সাম্রাজ্যে প্রবল প্রতিপত্তি ও প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। অসামান্য রূপ ও অসাধারণ গুণের অধিকারী ছিলেন এই নারী। সর্বগুণে গুণান্বিত নূরজাহানের ছিল তীক্ষ্ম বৃদ্ধি, প্রগাঢ় সাধারণ জ্ঞান এবং শিল্প-সাহিত্যের প্রতি একনিষ্ঠ আকর্ষণ। তার এ সকল গুণাবলি একদিকে যেমন মুঘল দরবারকে গৌরবান্বিত করে, অন্যদিকে তিনি রাজপরিবার ও রাজ্যের মানুষের কাছে ছলনাময়ীরূপে পরিচিতি লাভ করেন, যা মাহমুদা আক্তারের মধ্যে দেখা যায় না।
উপর্যুক্ত আলোচনায় স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, চারিত্রিক মিল থাকলেও উদ্দীপকের মাহমুদা আক্তার এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহানের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।