আলী হায়দারের সন্তানদের মতো উক্ত সম্রাটের অর্থাৎ সম্রাট শাহজাহানের সন্তানগণও উত্তরাধিকার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে- এ বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, বিশাল ধন-সম্পদের মালিক হয়েও সন্তানদের সংঘাতের কারণে আলী হায়দারের শেষ জীবন সুখের হয়নি। অর্থাৎ আলী হায়দারের সন্তানগণ নিজেদের মধ্যে এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ঠিক একইভাবে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্ররাও একে অপরের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিল।
১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়েন এ সুযোগে তার চারপুত্র দারাশিকো, সুজা, আওরঙ্গজেব ও মুরাদ সিংহাসন লাভের জন্য আত্মঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুত্রদের মধ্যে আওরঙ্গজেব সিংহাসনের উপযুক্ত উত্তরাধিকারী ছিলেন। এটি জানা সত্ত্বেও সম্রাট দারার প্রতি অন্ধস্নেহে আওরঙ্গজেবকে দাক্ষিণাত্যের সুবাদার পদে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন এবং তার বিজাপুর ও গোলকুন্ডা অভিযান নিষিদ্ধ করেন। এরূপ দুর্ব্যবহার ভ্রাতৃসংঘাতকে প্রকট করে তোলে। অধিকন্তু জ্যেষ্ঠপুত্র দারার কুপরামর্শে সম্রাট-পুত্রদের পরস্পরের প্রতি উসকানিমূলক পত্র প্রেরণ পরিস্থিতি দুর্বল করে তোলে। উপর্যুক্ত কারণে আওরঙ্গজেব, সুজা ও মুরাদের মধ্যে ত্রি-শক্তিজোট গঠিত হয়। ফলে শাহ সুজা নিজেকে সম্রাট ঘোষণার কারণে দারার নিকট বাহাদুরগড়ের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নিজ রাজ্যে প্রত্যাবর্তন করেন। আর আওরঙ্গজেব ও মুরাদের সম্মিলিত বাহিনী ধর্মাট ও সামুগড়ের যুদ্ধে দারাকে পরাজিত করে এবং সুকৌশলে আওরঙ্গজেব মুরাদকে পরাজিত করে সিংহাসন অধিকার করেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের আলী হায়দারের পুত্রদের মতো, সম্রাট শাহজাহানের পুত্ররাও এর রক্তক্ষয়ী ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছিল। সম্রাটের পুত্রদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক এ স্বন্দ্ব সম্রাটের শেষ জীবনকে অসহিষ্ণু করে তুলেছিল।