উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যকার উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে আওরঙ্গজেব সফলতা লাভ করেছিলেন।
সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্রের মধ্যে আওরঙ্গজেব সব দিক থেকে উপযুক্ত ছিলেন। ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, 'প্রতিদ্বন্দ্বিদের এমন কেউই ছিলেন। না যিনি কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সেনাপতিত্বে আওরঙ্গজেবের সমকক্ষ ছিলেন।' এছাড়া দারার সেনাবাহিনী অপেক্ষা আওরঙ্গজেবের সেনাবাহিনী ছিল রণনিপুণ এবং সুশৃঙ্খল। তার সেনাপতিরাও দারার সেনাধ্যক্ষের তুলনায় শ্রেষ্ঠ ছিল। মীর জুমলা, শায়েস্তা খান নিঃসন্দেহে দারার সেনাপতি খলিলুল্লাহ খান, যশোবন্ত সিংহ ও রুস্তম খানের তুলনায় আওরঙ্গজেবের অস্ত্রশস্ত্র তার ভ্রাতাদের চেয়ে উন্নত ছিল। এমনকি সম্রাট আওরঙ্গজেবের গোলাবারুদ, কামান, গোলন্দাজ বাহিনী তার ভ্রাতাদের তুলনায় উন্নত ছিল। তাছাড়া দারা শিয়া মতালম্বী ও হিন্দুদের প্রতি অনুরাগী হওয়ায় আওরঙ্গজেব সুন্নি জনগণের সমর্থন লাভ করেন। তারা আওরঙ্গজেবকে ইসলামের রক্ষক হিসেবে মনে করে তাকে সমর্থন জানান। অধিকন্তু শাহজাহানের পক্ষপাতিত্ব নীতি ও দারার প্রতি মাত্রাধিক দুর্বলতা উত্তরাধিকারী দ্বন্দ্বের সময় অসুস্থতার জন্য নির্লিপ্ত থাকা প্রভৃতি আওরঙ্গজেবের বিজয়কে সহায়তা করেছিল।
পরিশেষে বলা যায় যে, উপর্যুক্ত কারণে আওরঙ্গজেব তার ভ্রাতাদের সঙ্গে উত্তরাধিকার সংগ্রামে সফলতা লাভ করেছিলেন।