উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সাথে কোন মুঘল শাসকের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের বর্ণিত শাসকের সাথে মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন আকবরের সাথে মিল রয়েছে। মুঘল সম্রাট আকবর ছিলন ধর্মনিরপেক্ষ এবং দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তাই নিজের রাজনৈতিক অবস্থা সুদৃঢ় করার লক্ষে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। সব ধর্মের প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করে তিনি সাম্প্রদায়িকতা দূর করার মাধ্যমে নিজেকে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য করে তুলতে ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।এটি 'দীন-ই-ইলাহি' নামে পরিচিত। তবে উদ্দেশ্যগত দিক থেকে তার এই প্রথা সফল হয়নি যেমনটি খলিফা আল হাকিমের প্রবর্তিত ধর্মমতের মাঝেও দেখা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায় খলীফা আল হাকিম তার রাজ্যের সকল ধর্মাবলম্বীকে একই পতাকাতলে আনার জন্য একটি নতুন ধর্মমতের প্রচলন করেন। তার প্রবর্তিত ধর্মমত তেমন বিস্তার লাভ করেনি। যা সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত 'দীন-ই-ইলাহি' ধর্মমতের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। মুঘল সম্রাট আকবরও 'সুলহ-ই-কুল' নীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভারতের বুকে 'দীন-ই-ইলাহি' নামক একটি জাতীয় ধর্ম প্রবর্তন করেন। ঐতিহাসিক বাদাউনি এটিকে 'তৌহিদ-ই-ইলাহি ' ধর্ম হিসাবে অভিহিত করেন। জেসুইট লেখক বারটুলির মতে, সব ধর্মের সার নিয়ে 'দীন-ই-ইলাহি' ধর্মমত গঠিত হয়েছিল। আকবরের প্রবর্তিত 'দীন-ই-ইলাহি' ধর্মমতে কোনো নবী বা দেব-দেবীর অস্তিত্ব ছিল না। বস্তুত এটিকে স্বতন্ত্র ধর্ম না বলে ধর্মমতনাদ হিসেবে অভিহিত করাই সমীচীন। এই মতের অনুসারীদের সম্রাটের নামে তাদের জীবন, সম্পদ, সম্মান ও ধর্ম এই চারটি জিনিস উৎসর্গ করতে হতো। এই ধর্মের বিধান অনুযায়ী সম্রাটকে সিজদাহ্ করতে হতো। তবে মাত্র ১৮ জন সম্রাটের এই ধর্মমত গ্রহন করেছিলেন। সম্রাটের মৃত্যুর সাথে সাথে তার এই ধর্মমতও বিলুপ্ত হয়ে যায়। যা আমরা উদ্দীপকের খলীফা আল হাকিমের ধর্মমতের মধ্যেও লক্ষ করি।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সাথে কোন মুঘল শাসকের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা…
উদ্দীপক
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর