উদ্দীপকে উল্লিখিত মাধুর্য্যর মতামত তথা উক্ত যুদ্ধে অর্থাৎ পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করে বাবর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাবর তার বাহিনী নিয়ে দিল্লি ও আগ্রা দখল করেন। ১৫২৬ সালের ২৭ এপ্রিল দিল্লির জামে মসজিদে জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের নামে জুমার দিনের খুৎবা পাঠ করা হয়। এভাবে বাবর দিল্লি ও আগ্রা দখল করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘটিয়ে ভারতে মুঘল সম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। এ যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করলে দিল্লি সালতানাতের পতন। ঘটে এবং লোদী বংশের শাসনের অবসান হয়। পাশাপাশি সম্রাট বাবর ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসনের গোড়াপত্তন করেন। মুঘল সম্রাট বাবর ইব্রাহিম লোদীর চেয়ে সবদিক দিয়ে সেরা ছিলেন তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা, কৃশলী সেনাপতি ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ তার মেধা, দক্ষতা ও পরিশ্রম তাকে ইতিহাসের সোনালি পাতায় স্থায়ী আসন করে দেয়। ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, তার ভারত বিজয় তাকে ইতিহাসে স্থায়ী আসন দিয়েছে, যা একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেয়। বাবর প্রতিষ্ঠিত মুঘল বংশ ভারতে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত শাসন পরিচালনা করে। বাবর প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে ওয়ালি ও একজন দিওয়ান, শিকদার এবং কোতোয়াল নিয়োগ করেন। তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেন। তিনি দিল্লি ও আগ্রার ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্রালিকা নির্মাণ করেন। বাবর একজন সুসাহিত্যিক, নিপুন সমালোচক ও হস্তশিল্প বিশারদ হিসেবে কৃতিত্বের দাবিদার। বাবরনামা তার গদ্য রচনার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, মধ্যযুগের ইতিহাসে বাবর সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নরপতি, দুঃসাহসী যোদ্ধা, শাসক ও পণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি মধ্যযুগের যেকোনো কৃতি শাসকের সমকক্ষতা দাবি করতে পারেন।অতএব, পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাবর ভারতে ১৫২৬ সালে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাই মাধুর্য্যের মতামতটি যথার্থ।