বিশ্ব ইতিহাসের একজন উজ্জ্বলতম, আকর্ষণীয় ও প্রভাবশালী নারী ছিলেন নূরজাহান। পৃথিবীর খুব কম নারীই এ মহীয়সী নারীর ন্যায় অসীম সাহসিকতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা প্রদর্শন করতে পেরেছেন। নূরজাহানের বাল্য নাম ছিল মেহের-উন-নেসা। মেহের-উন-নেসার অসাধারণরূপে মোহিত হয়ে সম্রাট জাহাঙ্গীর তাকে বিবাহ করে প্রধান বেগমের মর্যাদাদান করেন এবং 'নূরজাহান' উপাধিতে ভূষিত করেন। নিজের প্রতি স্বামী জাহাঙ্গীরের অস্বাভাবিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নূরজাহান তার আত্মীয়স্বজন ও দলীয় লোকদের রাজ্যের উচ্চপদে নিযুক্ত করেন। নূরজাহান অনেক সময় নিজেই রাজকীয় আদেশ নাম জারি করতেন। কখনো কখনো তিনি সরকারি নির্দেশনায় সম্রাটের নামের সাথে তার নিজের নাম যুক্ত করতেন। নূরজাহান তার কর্মকাণ্ড দ্বারা সম্রাট জাহাঙ্গীরকে নামমাত্র সম্রাটে পরিণত করেছিলেন। অসামান্য রূপলাবণ্যের অধিকারিণী, বুদ্ধিমতী নূরজাহান মুঘল হেরেমের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী মহিলা ছিলেন। ইতিহাসবিদগণ নূরজাহানকে সিংহাসনের পশ্চাতের শক্তি বলে অভিহিত করেন এবং বলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর ছিলেন' তার ক্রীড়নক। আলোচ্য উদ্দীপকে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের শাসনামলে ও তার স্ত্রী ইমেলদা এতই প্রভাবশালী হয়ে উঠেন যে, সমস্ত প্রশাসনযন্ত্র তাকে প্রেসিডেন্টের চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করে। আর এ কার্যাবলিগুলোই উপরিউক্ত আলোচনায় সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহানের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়েছে। অর্থাৎ নূরজাহানও ছিলেন ইমেলদার ন্যায় প্রভাবশালী।